যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নাকচ করে রাফাহ অভিযান অনুমোদন

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নতুন একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ‘এখনো অযৌক্তিক’ বিষয়বস্তু রয়েছে বলে দাবি করে গতকাল শুক্রবার তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এদিকে ইসরায়েল আবারও ত্রাণপ্রত্যাশীদের ওপর হামলা চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা করে। গতকাল আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতেও ফিলিস্তিনিদের বাধা দেয় ইসরায়েল।

সর্বশেষ হামাসের পক্ষ থেকে ৪২ দিনের ত্রিস্তরীয় একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠানো হয় ইসরায়েলকে। এ নিয়ে বৈঠকে বসেছিল ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। গতকাল বৈঠকের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, হামাস যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে ‘এখনো অযৌক্তিক’ দাবি-দাওয়া রয়েছে। এ সময় তিনি আরও বলেন, রাফাহ শহরকেন্দ্রিক অভিযানের জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (্আইডিএফ) যে পরিকল্পনা করেছে তা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

হামাস সূত্র জানায়, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে বন্দি থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি এবং ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের পারস্পরিক মুক্তির ব্যাপার অন্তর্ভুক্ত করে ৪২ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইসরায়েলকে দেওয়া হয়। ত্রিস্তরীয় প্রস্তাবটিতে সহায়তা বৃদ্ধিসহ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতদের বাড়ি ফেরানোর শর্ত যুক্ত ছিল।

হামাস শর্ত দেয়, প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা শহরের কাছে সালাহ আল-দ্বীন সড়ক থেকে সরে যাবে যাতে বাস্তুচ্যুতরা উত্তর গাজায় তাদের বাড়ি ফিরতে পারে এবং একজন ইসরায়েলি নারী বন্দির বিনিময়ে ৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছাড়তে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির আগে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। চূড়ান্ত ধাপে ইসরায়েল গাজা থেকে সরে যাবে এবং পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করবে।

কিন্তু এসব শর্ত অগ্রাহ্য করে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। রাফাহতে অভিযান অনুমোদন করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আইডিএফ অভিযানের জন্য এবং বেসামরিক মানুষকে সরানোর ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।’ তিনি জানান, হামাসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও কাতারে তার দেশের প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা বিশ্ব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাতিসংঘ এবং নানা আন্তর্জাতিক পক্ষ রাফাহ শহরের মতো ঘনবসতি এলাকায় স্থল অভিযান না চালাতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু সেই আহ্বান উপেক্ষা করে নেতানিয়াহুর সরকার অভিযান অনুমোদন করল।

এদিকে গতকাল হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেড দাবি করেছে, মধ্য গাজায় তারা গতকাল চার ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছে। আবার ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেছে, গতকাল রমজান মাসের প্রথম শুক্রবারে জুমার নামাজ পড়তে আল-আকসায় প্রবেশে বাধাপ্রদান করেছে ইসরায়েল। তবে বাধা উপেক্ষা করে মুসল্লিরা মসজিদে জড়ো হন। এর মধ্যে গাজা ভূখন্ডে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে নিহত হন কমপক্ষে ২৯ জন। গাজার পৃথক দুটি স্থানে ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর ইসরায়েল এ হামলা চালায়। এ ছাড়া হামলায় আহত হন আরও দেড় শতাধিক মানুষ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার গাজা উপত্যকায় দুটি পৃথক ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় সহায়তার অপেক্ষায় থাকা কমপক্ষে ২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এর মধ্যে একটি ঘটনায় ৮ এবং অন্য ঘটনায় ২১ জন নিহত হন। তারা সবাই ত্রাণ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।