কর্মবিরতিতে ৫ হাজার চিকিৎসক

বকেয়া ভাতা পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন সারা দেশের বেসরকারি পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। এ সময় বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত এসব চিকিৎসক রোগীদের কোনো ধরনের সেবা দেবেন না।

গতকাল রবিবার পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাবির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুন্নবী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্মবিরতি সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, এফসিপিএস ট্রেইনি চিকিৎসকদের ৯ মাস ধরে ভাতা বন্ধ রয়েছে। প্রাইভেট রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের জনপ্রতি ছয় মাসের ৩০ হাজার টাকা করে বকেয়া রয়েছে। এমনকি বেসরকারি হাসপাতালের নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ১২টা হাসপাতালে চার মাস ধরে ভাতা বন্ধ রয়েছে। এসব বকেয়া ভাতা পরিশোধ ও বন্ধ ভাতা চালুর ব্যাপারে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেও কোনো ফল আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে সাত দিন দেশের সব প্রাইভেট পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ডা. জাবির হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, সারা দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ২ হাজার ১০০ এফসিপিএস কোর্সের চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। প্রতিদিন এসব চিকিৎসককে অনেক রোগী দেখতে হয়। বর্তমানে তাদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা। সেই ভাতা ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এমনকি এসব চিকিৎসককে ৫ হাজার টাকা ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও সেটাও বাস্তবায়ন হয়নি।

এ চিকিৎসক আরও জানান, সারা দেশে চার হাজার বেসরকারি রেসিডেন্ট চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের মাসিক ভাতা ২৫ হাজার টাকা করে। এসব চিকিৎসককে গত ছয় মাসে ৫ হাজার টাকা করে বকেয়া রয়েছে।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালের মধ্যে ১২টি হাসপাতালে কর্মরত নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদেরও চার মাস ধরে ভাতা বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৫০ নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। তাদের মাসিক ভাতা ২৫ হাজার টাকা করে।

এ ব্যাপারে ডা. জাবির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের ৯ মাসের ভাতা বকেয়া রয়েছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে, আমাদের হাসপাতালে যাওয়ার ভাড়াও নেই। এমন অবস্থায় আমরা চলতে পারছি না। ফলে বাধ্য হয়ে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে।’

বকেয়া ভাতা পরিশোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিসিপিএস সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা। তিনি বলেন, ভাতা দেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন। ভাতার টাকা তিন ভাগে আসে। দুই ভাগ চলে এসেছে, বাকিটা পরে আসবে। যেটা আছে সেটা দিয়ে হাজারখানেককে দেওয়া যাবে। এজন্য এক মাস সময় লাগবে। এ ছাড়া ভাতার পরিমাণ বাড়ায় তা সমন্বয় করতে সময় লাগছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ট্রেইনি চিকিৎসকদের চার দফা দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো ১. এফসিপিএস ট্রেইনি চিকিৎসকদের বকেয়া ভাতা সাত দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ২. প্রাইভেট নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ভাতা পুনরায় চালু করে নিয়মিত করতে হবে। ৩. প্রাইভেট রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের বকেয়া ভাতা পরিশোধ করতে হবে। ৪. স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালক, বিএমএ, স্বাচিপ এবং স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভাতা ২৫ হাজার থেকে আরেক দফা বাড়াতে হবে।