চালের দাম বাড়বে না বলে সম্প্রতি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা রোজায় চাল নিয়ে কারসাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। তবে সপ্তাহ না কাটতেই প্রতিমন্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারি ও সরকারের নেওয়া কোনো পদক্ষেপ কাজে আসেনি। উল্টো বাজারে চালের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। এতে তিন মাসে কারণ ছাড়াই দুই দফায় বেড়েছে চালের দাম। গত এক সপ্তাহে মান ভেদে সব ধরনের চালের কেজিতে বেড়েছে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত।
চাল ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধান সংকটের কথা বলে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছে। যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে। এতে সব ধরনের ৫০ কেজির চালের বস্তায় গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে স্বর্ণা ও ব্রি-২৮ জাতের চালের দাম সব থেকে বেশি বেড়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার ও কলাবাগান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে ব্রি-২৮ জাতের ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চাল বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৪৫০ টাকায়। বস্তায় ৩০০ টাকা বেড়ে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭৫০ টাকায়। মাঝারি মানের সরু চালে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৪০০ টাকায়। এছাড়া বস্তায় ৩০০ টাকা করে বেড়ে প্রতি বস্তা পাইজম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকা ও নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৮৫০ টাকায়।
আর কেজি হিসেবে গড়ে প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭২ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায়। ৭ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ব্রি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৭ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪৮ থেকে ৪৯ টাকায়।
একই ভাবে প্রতি কেজি নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৭ টাকায়। যা ছিল ৬৯ থেকে ৭৯ টাকা।
রাজধানীর মগবাজার এলাকার মুদি দোকানি শামিম আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমন সময় চালের দাম বাড়ায় খুব অবাক হয়েছি। বাজারের চালের দোকানে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মতো বেড়েছে। ফলে আমরা বাড়তি দামে চাল বিক্রি করছি। কয়েকদিনের মধ্যে দোকানে চাল ওঠালে সব খরচ মিলিয়ে কেজিতে আরও ১ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হবে।
কারওয়ান বাজারের চালের পাইকারি ব্যবসায়ী নোয়াখালী রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী শাওন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে মিলাররা চাল বস্তায় ১০০ থেকে ১৮০ টাকা বাড়িয়েছে। এর জন্য পাইকারি বাজারগুলোতেও দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি চালে অন্তত ২ থেকে আড়াই টাকা আমাদের হাতে বেড়েছে। এর বাইরে দোকান ব্যবস্থাপনার আরও খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি কেজি চালে ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজারে আসা ভোক্তারা বলছেন, বর্তমান বাজারে সব ভোগ্যপণ্যের দাম চড়া। এর মধ্যে নতুন বছরের প্রথম তিন মাসে দুই বার চালের দাম বাড়া বাজার ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতার প্রতিফলন।
কারওয়ান বাজারে আসা আয়েশা আক্তার নামের এক গৃহিণী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার চাইলে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি করা ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে পণ্যের দাম সাধারণ ভোক্তার নাগালের মধ্যে থাকে। কিন্তু আমাদের মন্ত্রীদের মুখে কেবল কথার ফুলঝুরি দেখি। ফলে ব্যবসায়ীরা আমাদের পকেট লুটে নিচ্ছে। আমাদের দেশে এর কোনো সমাধান নেই।