হাইকোর্টের রায়

সেই বাড়ি সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে সালাম মুর্শেদীকে

খুলনা-৪ সংসদীয় আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর দখলে থাকা গুলশানের সেই বাড়িকে পরিত্যক্ত বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে ওই সম্পত্তি গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবের মাধ্যমে সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে বলে সালাম মুর্শেদীকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

গুলশানের ওই বাড়ি নিয়ে করা রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পরিত্যক্ত ওই বাড়ি দখলের অভিযোগে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী ও বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তার ভাষ্য, রাজধানীর গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িটি ১৯৮৬ সালের অতিরিক্ত গেজেটে ‘খ’ তালিকায় পরিত্যক্ত বাড়ি হিসেবে তালিকাভুক্ত। কিন্তু পরিত্যক্ত ঘোষিত এ বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে বসবাস করছেন সালাম মুর্শেদী। এরপর ১ নভেম্বর হাইকোর্ট আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্নে রুল দেয়। একই সঙ্গে ওই বাড়ির সকল নথি দেখতে চায় আদালত। পরে একই বছরের ১ ডিসেম্বর বাড়ি সংক্রান্ত প্রতিবেদন চায় হাইকোর্ট। গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর তাদের পৃথক প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সম্পত্তি দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও মামলাসংক্রান্ত এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এতে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই বাড়ি নিয়ে জালিয়াতির ঘটনার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। আর দুদকের মামলায় সালাম মুর্শেদী ছাড়া ১১ জনকে আসামি করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি রায়ের পর্যায়ে আসে। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক। সালাম মুর্শেদীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুদ্দিন খালেদ।

অ্যাডভোকেট খুরশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের এই রায়ের পর ওই বাড়িটি এখন সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আর এ নিয়ে দুদকের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলেছে আদালত।’ অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’