বিজয় এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: আটকা পড়েছে ৭ ট্রেন, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা 

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিজয় এক্সপ্রেস লাইনচ্যুতের ঘটনায় চট্টগ্রাম মুখী (ডাউনলাইন) এক লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করার কারণে ঢাকা চট্টগ্রাম রেলপথে অন্তত পাঁচটি ট্রেন আটকা পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসব ট্রেন আকটা থাকায় চরম ভোগান্তিতে হাজার হাজার যাত্রী। 

কুমিল্লায় চট্টগ্রামগামী তিনটি ট্রেন আটকা পড়ে আছে। এগুলো হলো- কুমিল্লা স্টেশনে আটকা পড়েছে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস ও কর্ণফুলি আর লাকসাম রেল স্টেশন আটকা আছে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী সাগরিকা। এদিকে ফেনী রেল স্টেশনে আকটা আছে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহানগর গোধূলী ও মহানগর এক্সপ্রেস। এছাড়া লাকসামে চট্টগ্রামগামী দুটি মালবাহী ট্রেনও আটকা পড়েছে।

এসব ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপায় না পেয়ে অনেকে বিকল্প পথে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

এ বিষয় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর গোধূলীর যাত্রী রিপন মিয়া বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পরিবার নিয়ে মহানগর গোধূলী ট্রেনে যাত্রা করি ফেনী রেল স্টেশন এসে আটকা পড়ে আছি। প্রায় ১ ঘণ্টা আকটা আছি। রমজানের সময় কোথায় ইফতার করবো। অনেক কষ্ট পাচ্ছি। 

এ বিষয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রী ব্যবসায়ী আবুল খায়ের বলেন, ব্যবসায়ী কাজে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছি। সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম গিয়ে ইফতার করার কথা। এখন কুমিল্লা রেল স্টেশন এসে আটকা পড়েছি। ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করা হলো না। সাধারণ মানুষের কথা কেউই চিন্তা করে না। 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ রেলওয়ের ব্যবস্থাপক  সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামমুখী ডাউন লাইন দিয়ে দুদিকের ট্রেন চলাচল করছে। তাই একটু বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি রাতের মধ্যে আপলাইনের কাজ শেষ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই দুই লাইনে ট্রেন চলাচল করবে। যাত্রীদের আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। 

উল্লেখ্য, রবিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নাঙ্গলকোটের হাসানপুর স্টেশন সংলগ্ন ঢালুয়া ইউনিয়নের তেজের বাজার এলাকায় বিজয় এক্সপ্রেসের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। লাইনচ্যুত হওয়ার পর বগিগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের উভয় লাইনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন। রবিবার সন্ধ্যায় আখাউড়া থেকে একটি এবং চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এতে প্রায় ১০০ শ্রমিক কাজ করছে।