আমলে নেওয়া হয়নি ৯৪% অভিযোগ

২০২৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে কমিশনে ১৫ হাজার ৪৩৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগ যাচাই শেষে ৮৪৫টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। অর্থাৎ দুদকে দাখিল হওয়া অভিযোগের মাত্র ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি ৯৪ দশমিক ৫২ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়নি। দুদকের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় আমলে নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়। প্রতিবেদনটি গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপতির কাছে কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এ প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে কিন্তু দুদকের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় ৯১৩টি অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগের বছর ২০২২ সালে দুদকে ১৯ হাজার ৩৩৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৯০১ অভিযোগ অনুসন্ধানের গ্রহণ করা হয়। আর ৩ হাজার ১৫২টি অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৩৪১টি মামলা আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে কমিশন আমলের ৬৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ব্যুরো আমলের ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ আসামির সাজা হয়েছে। গড়ে দুদকের ৬২ দশমিক ৩০ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা এবং ৩৭ দশমিক ৭০ শতাংশ মামলায় আসামি খালাস পেয়েছে।

দুদকের প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আদালতে দুদকের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫৫৩টি। এর মধ্যে কমিশন আমলের ২৮৩টি ও ব্যুরো আমলের ৩০টিসহ ৩১৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। নিষ্পত্তি করা মামলার মধ্যে কমিশন আমলের ১৯০টি এবং ব্যুরো আমলের ৫টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। আর কমিশনের আমলের ৯৩টি এবং ব্যুরো আমলের ২৫টি মামলায় আসামিদের খালাস পায়। অর্থাৎ কমিশন আমলের মামলায় ৬৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ব্যুরো আমলের ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ মামলায় খালাস পায়। এ ছাড়া কমিশন অন্যভাবে আরও ২৮টি মামলা নিষ্পত্তি করে। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালে ৩৪১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ৪০৪টি মামলা এবং আদালতে ৩৬৩টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গত ১ বছরে দুদকের মামলায় ১ হাজার ৬৮৩ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৬ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ কোটি ৯৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫ টাকা বাজেয়াপ্ত, ২৮৩ কোটি ৪২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৫ টাকার সম্পদ ক্রোক এবং ১৩২ কোটি ১ লাখ ৯৩ হাজার ১০০ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়ম-দুর্নীতি চিহ্নিত ও তা প্রতিকারের বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তবে এবারের প্রতিবেদনে কোনো সুপারিশমালা পেশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।