ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা গতকাল বুধবার কয়েক ডজন রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীকে উদ্ধার করেছেন। আচেহ প্রদেশের জলসীমা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী রোহিঙ্গারা দেশটির শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক উৎপীড়নের শিকার। এসব মানুষ বেশিরভাগই মুসলিম যাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। মিয়ানমারে সম্প্রতি জান্তা ও বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যকার সহিংসতায় আরও একবার তাদের বাস্তচ্যুতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।   

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে প্রায় দুই হাজারের মতো রোহিঙ্গা ভিড়েছে। প্রবল জোয়ারের কারণে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে তাদের উদ্ধার করেন জেলেরা। গত কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশেই আশ্রয় নিতে আসতে দেখা গেছে বেশিরভাগ রোহিঙ্গাদের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, অর্ধ শতাধিক রোহিঙ্গাকে পশ্চিম আচেহর মেউলাবোহ শহরের উপকূলে নৌকায় দেখা যায়। জেলেদের নেতা মিফতাচ তিজুত আদেক বলেন, ‘আমরা জেলেরা তাদের উদ্ধার করার দায়িত্ববোধ উপলব্ধি করেছি। 

ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, জরুরি ও তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো সব রোহিঙ্গার জীবন রক্ষায় হাত বাড়িয়ে দেওয়া। তারা মেউলাবোহর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিলে যখন সমুদ্র শান্ত থাকে, তখনই এসব দুঃসাহসী যাত্রার খবর পাওয়া যায়। চরম ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি জমান। থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশও তাদের অন্যতম গন্তব্য। সমুদ্রপথের যাত্রায় তারা কাঠের ছোট্ট নৌকা ব্যবহার করে। 

ইউএনএইচসিআরের গত জানুয়ারি মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে পালাতে গিয়ে ৫৬৯ জন রোহিঙ্গা মারা যান অথবা নিহত হন। ২০১৪ সালের পর এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মারা যাননি।