আপনার জিজ্ঞাসা

রোজায় ইনজেকশন ও ইনসুলিন নেওয়া

ইমরান মুহাম্মদ, কিশোরগঞ্জ

প্রশ্ন : রোজা রেখে ইনজেকশন নিলে কিংবা ইনসুলিন গ্রহণ করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে কি?

উত্তর : শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে ইনজেকশন নিলে রোজা নষ্ট হবে না। চাই তা মাংসে নেওয়া হোক বা রগে। কারণ ইনজেকশনের সাহায্যে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশকৃত ওষুধ মাংস বা রগের মাধ্যমেই প্রবেশ করানো হয়ে থাকে, যা অস্বাভাবিক প্রবেশপথ, তাই এটি রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য কারণ নয়। -আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : ৩/২১৪

রোজা রেখে ইনসুলিন নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ ইনসুলিন রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালি জায়গায় প্রবেশ করে না। -ইবনে আবিদিন : ৩/৩৬৭

রোজা রেখে ভুলে পানাহার করা

রুমানা আলী, বগুড়া

প্রশ্ন : আমার বড় বোন রোজা অবস্থায় পেট ভরে তৃপ্তি সহকারে খাবার খেয়ে ফেলে। খাবার খাওয়ার ১৫ মিনিট পর তার স্মরণ হয় সে রোজা ছিল। এরকম অবস্থায় তার রোজার হুকুম কী? তার রোজা কি ভেঙে গিয়েছিল?

উত্তর : কেউ যদি রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করে তবে তার রোজা ভঙ্গ হবে না। অবশ্য স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আর আপনার বোনের যেহেতু খাবার খাওয়ার ১৫ মিনিট পর রোজার কথা স্মরণ হয়েছে, তাই তার রোজা ভঙ্গ হয়নি। সে যতই পেট ভরে এবং তৃপ্তিসহ খাবার গ্রহণ করুক না কেন, ভুলে পানাহারের কারণে রোজার কোনো ক্ষতিই হয়নি। -রদ্দুল মুহতার ৩/৩৬৫

ইতিকাফ অবস্থায় ভুলে মসজিদ

থেকে বের হওয়া

আশফাক সালেহীন, ঢাকা

প্রশ্ন : আমার এক আত্মীয় প্রতি বছর রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করেন। গত বছর একদিন ইতিকাফ অবস্থায় তিনি এক লোকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ভুলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যান। পরে ইতিকাফের কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন কেউ বলেছে, মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে তার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কেউ বলেছে, সে যেহেতু ভুলে বের হয়েছে, তাই তার ইতিকাফ নষ্ট হয়নি। যেমন ভুলে খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙে না। এই ব্যক্তির ইতিকাফ ভেঙে গেছে কি না, এ বিষয়ে সঠিক মাসয়ালা জানতে চাই।

উত্তর : প্রশ্নে উল্লিখিত ব্যক্তির ইতিকাফ ভেঙে গেছে। ইতিকাফকারী মসজিদ থেকে ভুলে বের হলেও ইতিকাফ ভেঙে যায়। এটি রোজার মতো নয়। তাই ইতিকাফকে রোজার সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। -আল বাহরুর রায়েক ২/৩২০

ফরজ নামাজের তৃতীয় রাকাতে সুরা মেলানো

সুলাইমান হোসেন, মাগুরা

প্রশ্ন : চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে ভুলে অন্য সুরা পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হয়? 

উত্তর : চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজের শেষ দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য সুরা পড়লে সাহু সিজদা আবশ্যক হয় না। তবে কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে শেষ দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য সুরা মিলালে তা অনুত্তম হবে। -আলবাহরুর রায়েক ২/৯৪