কারাগার থেকে রাজ্য চালাচ্ছেন কেজরিওয়াল

ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল কারাগারে থেকে সরকারি আদেশ দিয়েছেন যা দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো ঘটনা। গতকাল রবিবার একসঙ্গে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হয় বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’-এর শরিকরা। কেজরিওয়াল গ্রেপ্তার হওয়ার পর গুজরাটে একসঙ্গে ভোটে লড়ার কথা ঘোষণা করেছে আপ ও কংগ্রেস। এই দুই দলের নেতৃত্ব গতকাল দিল্লিতে একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনেও আসে।

আপ প্রধান আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি কারাগারে গেলেও সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে পিছপা হবেন না। এবার সেই অনুযায়ী এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হেফাজতে বসেই সরকারি কাজ সারলেন তিনি। দিল্লির জল দপ্তরকে একটি আদেশ জারি করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। তিনি একটি নোটের মাধ্যমে দিল্লির জলবিষয়ক মন্ত্রী অতিশীর কাছে একটি বার্তা পাঠান। এর আগে ঝাড়খ-ের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি পদ ছেড়ে দিয়ে জেলে যান।

এদিকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, আর্থিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত একজনকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা উচিত নয়।

আবার নিম্ন আদালতের ইডি হেফাজতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছেন কেজরিওয়াল। এ নিয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি পেশ করা হয়। সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।

আবগারি দুর্নীতি মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তার নিয়ে গত তিনদিন ধরেই রাজধানী দিল্লির রাস্তা উত্তাল। প্রতিবাদ-মিছিল করছেন আপ নেতাকর্মীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইনডিয়া শরিকরাও বিক্ষোভে মাঠে নেমেছে। আগামী রবিবার রাজধানী দিল্লিতে ‘মেগা র‌্যালি’ করবে বিরোধীরা। দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি। এ ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ‘ঘেরাও’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনডিয়া।

কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তারের পর ইনডিয়া জোটের শরিকদের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গুজরাটে কংগ্রেস ও আপ জোট বেঁধেছে। কেজরিওয়ালের মুক্তির দাবিতে তারা যৌথ কর্মসূচি পালন করছে। গতকাল কংগ্রেস ও আপ সংবাদ সম্মেলন করে দিল্লিতে।

সংবাদ সম্মেলনে দিল্লির সরকারের মন্ত্রী গোপাল রাই বলেন, ‘কেজরিওয়ালকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। রাজনীতিবিদদের ভয় দেখানোর এবং বিরোধীদের নির্মূল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছেন। ঝাড়খন্ডের হেমন্ত সোরেন হোক বা বিহারের তেজস্বী যাদব সবার বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।

আপ নেতা গোপালের আরও অভিযোগ, ‘কেজরিওয়ালের পরিবারকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। আপের সদর দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এখন দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি জারি রয়েছে। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই বিজেপি আমাদের বিভিন্নভাবে আটকানোর চেষ্টা করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি কংগ্রেসের প্রধান অরবিন্দর সিংহ লাভলী বলেন, ‘এটা কেমন গণতন্ত্র? আপনি নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করছেন, কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছেন। আমাদের নেতা রাহুল গান্ধী গণতন্ত্র বাঁচাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কংগ্রেস লড়াই থেকে পিছপা হবেন না।’