সেই বাড়ি আপাতত সরকারকে দিতে হচ্ছে না সালাম মুর্শেদীকে

সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর দখলে থাকা গুলশানের সেই বাড়িটি আপাতত সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হচ্ছে না। কারণ বাড়িটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত।

খুলনা-৪ সংসদীয় আসনের সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য হাইকোর্টের ওই রায়ে স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। গতকাল রবিবার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ৮ সপ্তাহের স্থিতাবস্থার আদেশ দেয়।

আদালতে সালাম মুর্শেদীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রিটকারীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক।

অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেম্বার আদালতের এ আদেশের ফলে গুলশানের ওই বাড়ি যে প্রক্রিয়ায় ছিল সেভাবেই থাকবে। অর্থাৎ আপাতত এটি সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে না।’

গুলশানের ওই বাড়ি নিয়ে দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ১৯ মার্চ হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এক রায়ে সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসের মধ্যে ওই বাড়ি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারকে বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়। পরিত্যক্ত ওই বাড়ি দখলের অভিযোগে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী ও বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এরপর ১ নভেম্বর হাইকোর্ট আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নে রুল দেয়। একই সঙ্গে ওই বাড়ির সব নথি দেখতে চায় আদালত। পরে একই বছরের ১ ডিসেম্বর বাড়ি সংক্রান্ত প্রতিবেদন চায় হাইকোর্ট। গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর তাদের পৃথক প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সম্পত্তি দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও মামলা সংক্রান্ত এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এতে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই বাড়ি নিয়ে জালিয়াতির ঘটনার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। আর দুদকের মামলায় সালাম মুর্শেদী ছাড়া ১১ জনকে আসামি করা হয়।