দালালদের কারণে গণহত্যার স্বীকৃতি পাইনি : কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য পাওনা পাইনি। পাকিস্তানি নাগরিকরা বছরের পর বছর আমাদের বোঝা হয়ে আছে। কথা দিয়ে তাদের নাগরিকদের ফেরত নেয়নি। পাকিস্তান একাত্তরে গণহত্যার একটিবারও দুঃখ প্রকাশ করেনি। সেই পাকিস্তানের যারা দালালি করে তারা স্বাধীনতার শত্রু। এদের কারণে গণহত্যার স্বীকৃতি আজও আমরা পাইনি।’

গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা আয়োজিত গণহত্যা দিবসের এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপির কর্মসূচি ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ’ দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি জানতে চাই, আজকে দুপুরবেলায় পল্টন ময়দানে মির্জা ফখরুল মুক্তিযোদ্ধার সমাবেশ করেছেন, একাত্তরে আপনি কোথায় ছিলেন? আপনি কোথা থেকে ট্রেনিং নিয়েছেন? কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?’ তিনি বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি, এরা কারা? এরা পাকিস্তানের দালাল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে প্রভু নাই। বিএনপির প্রভু আছে যারা তাদের স্বার্থের পক্ষে ওকালতি করে। আমাদের বন্ধুরা একাত্তরের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো বিদেশি বন্ধু হস্তক্ষেপ করেনি। বিএনপির বন্ধুরা যখন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করেছিল, তখন আমাদের বন্ধুরা নির্বাচনের পক্ষে স্ট্রংলি দাঁড়িয়েছিল।’ তিনি বলেন, বিএনপি পাকিস্তানের দালালি করে, আমাদের শত্রু। এই শত্রুরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল, জেলে চার নেতাকে হত্যা করেছিল। জয় বাংলা, ৭ মার্চ নিষিদ্ধ করেছিল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রান্নাঘরে যা যা ব্যবহার করে তার মধ্যে ভারতীয় পণ্য কোনটা কোনটা। রান্নাঘরে যান, শোয়ার ঘরে যান ভারতীয় পণ্য। এখন রিজভী রাজনীতি করার জন্য গা থেকে শাল ফেলে দিয়ে আগুনে পুড়েছেন। আরও কয়টা শাল তার ঘরে কয়টা আছে, কে জানে। ভারতীয় পণ্য ছাড়া খাবার জোটে না। ভারতীয় মসলা, ভারতীয় পেঁয়াজ কার ঘরে নাই? খুঁজে দেখব?’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।