ইরানের সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্প নিয়ে রীতিমতো উভয় সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। উপায় না দেখে এবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের জন্য আবদার করেছে পাকিস্তান। প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে ইরানের চাপ এবং তেহরানের সঙ্গে বন্ধুত্ব না করতে ওয়াশিংটনের চাপ এই দুয়ের চাপে এখন ইসলামাবাদ। এ অবস্থায় পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের প্রার্থনা করেছে।
ইরানের সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন সংক্রান্ত কাজে পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত হলে সেগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। কারণ ইরানের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লের রাজনীতিতে তেহরানের পশ্চিমাবিরোধী অবস্থানের কারণে ইরানি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মকর্তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করেছে, ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প এগিয়ে নিতে পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেন ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করা হয়।
গত সোমবার পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী ড. মুসাদিক মালিক বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা (সম্ভাব্য) থেকে অব্যাহতি চাইছি। গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞার ভার বইতে পারবে না পাকিস্তান।’ অবশ্য সম্প্রতি পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, কোনো আলোচনা কিংবা নিষেধাজ্ঞা ছাড় নিয়ে তৃতীয় পক্ষের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগই নেই।
পাকিস্তান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে তেহরান-ইসলামাবাদ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে বক্তব্য রাখেন। এর পরই তা আবার আলোচনায় আসে। গত দশকের শুরু থেকে আলোচনা রয়েছে এই প্রকল্প। মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে ডোনাল্ড লু বলেন, প্রকল্পটি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। এ সময় তিনি দুই দেশের সম্পর্কের জন্যও প্রকল্পটিকে মারাত্মক হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন।
পাকিস্তান-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এই পাইপলাইনের নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং বালুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত চলে যাবে। এই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে না গেলে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে পারে ইরান। পাকিস্তানের ‘ইন্টারস্টেট গ্যাস সিস্টেমস (প্রাইভেট’ শীর্ষক প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেবে। প্রথম দিকে ভারত, পাকিস্তান ও ইরানকে নিয়ে এই গ্যাস পাইপলাইনের কাজ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরে ভারত সরে পড়ায় এটি দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পে পরিণত হয়।