সাবেক বিচারপতির বিরুদ্ধে দুই তরুণের লড়াই

আগামী মাস থেকে ভারতের লোকসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনের দিকে নজর থাকে সবারই। এবার দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের ওপর নজর থাকবে গোটা ভারতের। কারণ এখানে রাজ্যের হাইকোর্টের বিচারক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে এই লড়াইয়ের ওপর মানুষের মনোযোগ আরও বেড়েছে; কারণ এখানে বিচারকের বিরুদ্ধে লড়ছেন ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্য এবং সাবেক শাসক দল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদী (সিপিআইএম) দলের প্রার্থী তরুণ আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে জানায়, তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বিচারক থাকাকলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কয়েকটি দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক নির্দেশ দিয়েছেন যা তৃণমূল সরকার ও শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য অস্বস্তিকর। এমনকি বিচারককে লক্ষ করে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে দেখা গেছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। রাজ্যের হাজার হাজার ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থীদের কাছে তিনি বেশ সাধুবাদ পাচ্ছিলেন। চাকরিতে থাকাকালে সাবেক বিচারপতির নাম শোনা যাচ্ছিল, লোকসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বিজেপি থেকে। প্রার্থী ঘোষণার আগেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।  ওদিকে দেবাংশু ভট্টাচার্যের বয়স ৩০-এর আশপাশে। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়সও এর আশপাশেই। অর্থাৎ দুই তরুণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের এক বিচারকের লড়াই দেখা যাবে তমলুকে। দেবাংশু তৃণমূলের মুখপাত্র। দলের নানা ইস্যুতে গণমাধ্যমে তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের জনবান্ধব কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি প্রচারের আলোয় আসেন। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রার্থিতা ঘোষণার পর দেবাংশু সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন ‘খেলা হবে’। সায়ন তরুণ আইনজীবী হিসেবে বেশ নাম করেছেন। মামলা দেখভালের পাশাপাশি তিনিও গণমাধ্যমে বামপন্থিদের হয়ে বক্তব্য রাখেন। তমলুকের প্রচারের তিনি রাজ্যে আবারও ‘লাল সূর্য’ ফেরানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।