ফেনীর সোনাগাজীতে ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা। মারধরের শিকার শাখাওয়াত হোসেন শাকিল মিয়াজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে বগাদানা ইউনিয়নের মান্দারী গ্রামে একদল যুবক তাকে মারধর করে বলে দাবি তার।
শাকিল মিয়াজী বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় বগাদানা ইউনিয়নের বড় হালিয়া গ্রামে ফুফুর জানাজা পড়তে যাই। রাত ৯টার দিকে ফুফুর বাড়ি থেকে ফেরার পথে মান্দারী গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে ৮-৯ জন যুবক আমার গতিরোধ করে। এ সময় ফেসবুকে সরকারের বিরুদ্ধে কেন লেখালেখি করি জানতে চেয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করে। একপর্যায়ে আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাতের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে। আমি নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলে তারা একযোগে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। ফের সরকারবিরোধী লেখালেখি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিই।’
শাকিল বলেন, ‘হামলাকারীরা সবাই সরকারদলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে হামলার ভয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতে পারি না, তাই বাধ্য হয়ে ফেনীতে থাকি। কিছুদিন আগেও ফেসবুকে রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কয়েকজন ছেলে আমার বাড়িতে গিয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের গালাগাল করে।’
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ নুর হামলার নিন্দা ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
বগাদানা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শোয়াইব তানিম বলেন, ‘বগাদানা ইউনিয়নে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। ছাত্রদল নিজেরা মারামারি করে ছাত্রলীগের ওপর দোষ দিচ্ছে।’
উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুর রহমান রাসেল জানান, ছাত্রদলের দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে এ হামলা হয়েছে। নিজেরা মারামারি করে ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপায়।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সুদ্বীপ রায় জানান, হামলার ঘটনা পুলিশকে কেউ অবহিত করেনি। ভিন্ন সূত্রে জানার পর গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।