বিএনপির ৮০% নেতাকর্মী দমন পীড়নের শিকার

বিএনপির ৮০ ভাগ নেতাকর্মী সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের প্রথম শিকার খালেদা জিয়া। গত বুধবার রাতে তিনি এত অসুস্থ হয়েছিলেন, চিকিৎসকরা সবাই বলছিলেন আর বোধহয় বেশি সময় পাওয়া যাবে না। আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া, তাকে তারা আপাতত চিকিৎসা দিয়ে সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ‘গুম-খুন-পঙ্গুত্বের’ শিকার পরিবারের সদস্যদের ঈদ উপহার দেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সেলের উদ্যোগে এই ঈদ উপহার দেওয়া হয়।

এ সময় ‘গুম-খুন’ হওয়া পরিবারের মধ্যে চৌধুরী আলমের ভাই খুরশীদ আলম মিন্টু, সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজীদা ইসলাম তুলি, নুরে আলমের স্ত্রী রিনা আলম, মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর বোন ঝুমুর আক্তার, পারভেজ রেজার ছোট মেয়ে হৃদি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পরে পরিবারগুলোর সদস্যদের হাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ঈদ উপহার তুলে দেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘শুধু বিএনপি নয়। পুরো বাংলাদেশের মানুষ আজ নিপীড়নের শিকার। পুরো দেশের মানুষ ভয়ে আতঙ্কে থাকে, কখন কাকে কীভাবে তুলে নিয়ে যায়। জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটা একটা ভয়াবহ ব্যাপার। একটা জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ থেকে মুক্তি পেতে হলে পুরো জাতিকে সমন্বিত করতে হবে। তারপর বিদ্রোহ, প্রতিরোধ সৃষ্টি করে এদের পরাজিত করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক দলের পক্ষে যতটুকু লড়াই-সংগ্রাম করা যায়, তার থেকেও বেশি সংগ্রাম আমরা করছি। সুতরাং এখন যেটা প্রয়োজন, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা। ’৬৯ এবং ’৯০ সালে যেভাবে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, ঠিক একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সেলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে ও সদস্য নাজমুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা শিমুল বিশ্বাস, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মীর হেলাল, যুবদলের আবদুল মোনায়েম মুন্না উপস্থিত ছিলেন।