উত্তরপ্রদেশের নেতাকে কারাগারে বিষ দিয়ে হত্যা!

ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিক মুখতার আনসারি হঠাৎই কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। মুখতারের ছেলে উমর অভিযোগ করেছেন, তার বাবার খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তিনি বেশ পরিচিত। নয় মাস আগে রাজ্যের আরেক রাজনীতিক আতিক আহমেদকে পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মুখতার আনসারিকে একজন ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে ভারতের গণমাধ্যমে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এই নেতার ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মুখতারের।

কারাগার সূত্র জানায়, রোজা রেখেছিলেন মুখতার। ইফতারের পরই স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। বান্দা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সুনীল কৌশল জানান, পেটের যন্ত্রণা নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর সেখানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মুখতারের।

মুখতারের ভাই গাজিপুর লোকসভা আসনের বর্তমান এমপি আফজল আনসারি অভিযোগ তুলেছেন, তার ভাইকে জেলের মধ্যেই বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হয়েছে। এরপর একই অভিযোগ শোনা গেল ছেলে উমরের গলাতেও। গতকাল শুক্রবার ময়নাতদন্তের পর মুখতারের দেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। মুখতার উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টিতে (বিএসপি) যোগ দিয়েছিলেন। তবে তার পরিবার কংগ্রেসের সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনি পরে একসময় নিজেই রাজনৈতিক দল তৈরি করেছিলেন।

মুখতার আনসারির ছেলে উমর দাবি করেন, ‘আমার বাবাকে ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছিল! বাবাকে খাবারে বিষ দেওয়া হয়েছিল। সেই খাবার খেয়েই মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি বলেন, এই মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতে যাবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু বলা হয়নি। পরিবার সংবাদমাধ্যম থেকে বিষয়টি জানতে পারে।

উমর আরও বলেন, ‘দিন দুয়েক আগেও আমি তার (মুখতার আনসারি) সঙ্গে দেখা করতে জেলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বিষ দেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে আমরা আগেও যা বলেছি, এখনো একই কথাই বলব।’ গত ১৯ মার্চ নাকি মুখতারকে রাতের খাবারের সঙ্গে বিষ দেওয়া হয়েছিল, এমনই অভিযোগ করেছেন উমর।

৬০ বছর বয়সী মুখতার উত্তরপ্রদেশের মৌ সদর বিধানসভার পাঁচবারের বিধায়ক। ২০০৫ সাল থেকে উত্তরপ্রদেশ এবং পাঞ্জাবের জেলে বন্দি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৬০টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন ছিল। তিনি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন আদালতে আটটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বান্দা জেলে বন্দি ছিলেন। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ গত বছর যে ৬৬ জন গ্যাংস্টারের তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতেও নাম ছিল মুখতারের। সম্প্রতি ৩৬ বছর পুরনো এক মামলায় দোষীসাব্যস্ত হয়েছিলেন মুখতার। সেই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় আদালত।

এর আগে উত্তরপ্রদেশের ফুলপুরের সাবেক এমপি প্রয়াগরাজের সাবেক বিধায়ক আতিককে গত বছর রাজু পাল এবং উমেশ পালের খুনের মামলায় তদন্তের জন্য গুজরাট থেকে প্রয়াগরাজে এনেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। গত ১৫ এপ্রিল রাতে প্রয়াগরাজের হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেই বন্দুকধারীরা তাকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে।