সিরিয়ার ৩৬ সেনা নিহত ইসরায়েলি হামলায়

সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশে ইসরায়েলি হামলায় ৪০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, হামলায় নিহতদের মধ্যে লেবাননভিত্তিক শিয়া মতাবলম্বী হিজবুল্লাহ বাহিনী এবং সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সেনারা রয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর বেশ কয়েকবার সিরিয়ায় এ ধরনের হামলা হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলাটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়ায় হিবজুল্লাহর অস্ত্রাগারে আঘাত করেছে। এতে ৪২ জনের মতো নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার এ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার ঘটনাস্থল আলেপ্পোর দক্ষিণাঞ্চলীয় জিবরিন উপশহর। জায়গাটি আলেপ্পো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে। এ ছাড়া এই জায়গার কাছে একটি সামরিক স্থাপনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি হামলায় ৩৬ জন সিরীয় সেনা এবং ছয়জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হন। এতে আহত হন কয়েক ডজন। এ ঘটনা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো বিবৃতি আসেনি। তবে এ ধরনের আক্রমণ চালানোর পর সাধারণত ইসরায়েল স্বীকার করে না। একক হামলায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইসরায়েলি হামলার ঘটনা এটি। এতে হিজবুল্লাহর স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। গত নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় এ কমান্ডারের আরেক ভাইও নিহত হন।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, সিরিয়ার আল সাফেরাহ এলাকার আকাশ-প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতেও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে পশ্চিম আলেপ্পোর কাফর জউন এলাকায়ও।

সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, গত বৃহস্পতিবার আলেপ্পোর দক্ষিণ-পূর্বের কয়েকটি জায়গায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বেসামরিকসহ সেনারা নিহত হয়েছেন। বিমান হামলার সময় ইদলিব ও আলেপ্পোর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ড্রোন হামলাও হয়। ড্রোন হামলায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে।

আরব বসন্তের প্রেক্ষাপটের ওপর দাঁড়িয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ ও জন-অসন্তোষের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে শুরু হয় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ। ওই সময় থেকে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। তেল আবিব মনে করে, হিজবুল্লাহর যাবতীয় সরবরাহ পৌঁছানোর পথ সিরিয়া হয়ে লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত।

অন্যদিকে সিরিয়ার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি বাহিনীর হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা। সেখানে আসাদবিরোধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সক্রিয়তা রয়েছে।