পাকিস্তানে স্কুলের বাইরে আড়াই কোটি শিশু

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যখন বোমা এবং অস্ত্র কেনার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, তখন দেশটির স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে লাখো শিশু। দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ সশস্ত্র বাহিনীযুক্ত দেশ পাকিস্তানে স্কুলবহির্ভূত শিশুর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৬২ লাখে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে নেই পর্যাপ্ত বিদ্যালয় এবং যেখানে বিদ্যালয় আছে, সেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই এবং শিক্ষক থাকলে মৌলিক অবকাঠামো অনুপস্থিত। ফলে প্রতিবছর স্কুলের বাইরে থেকে যাওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী ৩৭ লাখ শিশু স্কুলে যেতে পারছে না, যা ২০১৮ সালে ছিল ২১ লাখ। একইভাবে পাঞ্জাবের ৭৭ লাখ এবং সিন্ধুতে ৬৪ লাখ শিশু স্কুলে যেতে পারেনি। বেলুচিস্তানে ৬৫ শতাংশ শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত পাকিস্তানি রাজনৈতিক নেতারা একে অন্যকে কাদা ছোড়ায় ব্যস্ত। সেনাবাহিনীর সুদৃষ্টিতে থাকতে তাদের প্রচেষ্টাও বেশ চোখে পড়ার মতো। কিন্তু চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে দেশটির লাখ লাখ শিশু, যারা ইটভাটা ও বাজারে দাস হিসেবে কাজ করে, যৌন শিকারিদের শিকার হয় এবং স্কুলের বাইরে থাকে। এই শিশুদের নিয়ে রাজনৈতিকদের কোনো চিন্তা নেই।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের (পিআইই) ২০২১-২২ সালের শিক্ষা পরিসংখ্যানের রিপোর্ট বলছে, স্কুলবহির্ভূত শিশুদের প্রাদুর্ভাব ভয়ংকর। ২০২১-২২ সাল পর্যন্ত, পাকিস্তানজুড়ে ২ কোটি ৬২ লাখ স্কুলবহির্ভূত শিশু রয়েছে, যা বড় উদ্বেগের কারণ।

দেশটিতে স্কুলগামী বয়সের ৩৯ শতাংশ শিশু বর্তমানে স্কুলের বাইরে রয়েছে, যা সর্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের ইটভাটায় কর্মরত ৪০ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ শিশু। যে সময় তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা; সে সময় তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কাস্তে-শাবল।