তোশাখানা মামলায় ইমরান ও তার স্ত্রীর সাজা স্থগিত

রাষ্ট্রীয় উপহার তথা তোশাখানার সামগ্রী কেনাবেচায় অনিয়মের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির কারাদন্ড স্থগিত করেছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার এ নির্দেশ দেয় আদালত। এ মামলায় ইমরান ও তার স্ত্রীকে ১৪ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছিল। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারপতি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছিল সেই আবহের মধ্যে এ রায় এলো।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের জাতীয় ও চারটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের আগ দিয়ে গত ৩১ জানুয়ারি রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত দেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ‘ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (ন্যাব)’-এর আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৪ বছরের করাদান্ড দেয়। তোশাখানা মামলাটি হয়েছিল গত বছর ডিসেম্বরে। এতে সৌদি আরবের যুবরাজের উপহার দেওয়া দুটি জিনিস কম দাম দেখিয়ে নিজের আয়ত্তে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল ইমরান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ন্যাব আদালত পরের মাসেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তিনি ও তার স্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও বিদেশি প্রতিনিধির কাছ থেকে ১০৮টি উপহার গ্রহণ করেছেন।

ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমির ফারুকের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে গতকাল তোশাখানা মামলার শুনানি হয়। ন্যাব কৌশলী ও ইমরানের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত সাজা স্থগিত করে। ঈদের পর মামলাটির শুনানি শুরু হবে। তবে ইমরান খান এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। কারণ তার বিরুদ্ধে আরও মামলা বিচারাধীন।

নিয়মবহির্ভূতভাবে বিয়ে করার দায়েও এ দম্পতিকে সাত বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়। গত ৩০ জানুয়ারি গোপন কূটনৈতিক নথি (সাইফার) ফাঁসের মামলায় বিশেষ আদালত ইমরান খান ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশিকে ১০ বছরের কারাদন্ড দেয়।

তোশাখানা মামলার রায়ে ১৪ বছরের কারাদন্ডের পাশাপাশি ইমরান ও তার স্ত্রীকে ১০ বছরের জন্য সরকারি দায়িত্ব পালনে নিষিদ্ধ করা হয়। প্রত্যেককে ৭৮ কোটি ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়।

সম্প্রতি ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি বরাবর অভিযোগ করেন, সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) রাজনৈতিক মামলার কাজে হস্তক্ষেপ এবং চাপ প্রয়োগ করছে। এ নিয়ে গতকাল শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত নোটিস জারি করে। বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের এ অস্থিরতার মধ্যেই ইমরানের সাজা স্থগিতের রায় এলো।