গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৬ পশ্চিমা ত্রাণকর্মী নিহত

গাজা উপত্যকায় ত্রাণকার্যের সময় আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডাব্লিউসিকে)’-এর সাতজন কর্মীকে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ইসরায়েল। নিহতরা কয়েকটি পশ্চিমা দেশের নাগরিক। এদিকে বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ করতে গত সোমবার ইসরায়েলের আইনসভা ‘নেসেট’-এ আইন পাস হয়েছে। এই আইন পাস হওয়ার ফলে কাতার-ভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরা আর দেখা যাবে না ইসরায়েলে।

গাজায় ডাব্লিউসিকের কর্মতৎপরতার ওপর বিমান হামলা চালিয়ে সাতজনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। গাজার অব্যাহত খাদ্যসংকটের মধ্যে তারা লাগাতার সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

ডাব্লিউসিকে গতকাল বিবৃতিতে জানায়, কাজ চালানোর সময় কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের লোগো সংবলিত রক্ষাব্যুহ পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার দ্বৈত নাগরিকত্বধারী একজন ছিলেন। ঘটনার পর নিহতদের দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের ছয়জনই বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে তিনজন যুক্তরাজ্যের, একজন পোল্যান্ডের, একজন অস্ট্রেলিয়ার এবং একজন মার্কিন-কানাডিয়ান। এ ছাড়া তাদের বহনকারী গাড়ির চালক ফিলিস্তিনি নাগরিকও নিহত হয়েছেন। 

ডাব্লিউসিকের নির্বাহী প্রধান এরিন গোর বলেন, ‘এটি শুধু ডাব্লিউসিকের ওপর আক্রমণ নয়। এটি মানবিক সহায়তায় নিযুক্ত সংগঠনগুলোর ওপর আক্রমণ। এই ঘটনা দেখিয়েছে খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মারাত্মক পরিস্থিতিযুক্ত একটি এলাকায়। এটি ক্ষমার অযোগ্য।’

ঘটনার পর ডাব্লিউসিকে তার কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। অবশ্য এই ঘটনা নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক এবং অনিচ্ছাকৃত। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এতে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

এদিকে, গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলছেন, যেসব বিদেশি গণমাধ্যম দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ, সেগুলো বন্ধ করতে হবে।

ইসরায়েলি প্রশাসনের সঙ্গে বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সরকারের সঙ্গে আলজাজিরার সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরেই নাজুক। গত ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালালে গাজায় যে যুদ্ধ শুরু হয়, তার পর থেকে আলজাজিরা নানা সময়ে ইসরায়েলি প্রশাসনের তোপের মুখে পড়েছে। নেতানিয়াহু আলজাজিরাকে হামাসের মুখপাত্র বলে থাকেন। গণমাধ্যম বন্ধের আইন পাসের আগে গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহু লেখেন, ‘সন্ত্রাসী চ্যানেল আলজাজিরা ইসরায়েলে আর দেখা যাবে না। চ্যানেলটির কার্যক্রম বন্ধ করতে আমি নতুন আইন প্রণয়নের দিকে এগুচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে আলজাজিরা কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘নেতানিয়াহুর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে আমাদের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়েছে। সর্বশেষ পদক্ষেপ আলজাজিরার কণ্ঠরোধ করতে ইসরায়েলের কাঠামোগত আগ্রাসনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। নতুন আইন আমাদের সাহসী ও পেশাদার সংবাদ তৈরিতে বাধা হতে পারবে না।’

এ নিয়ে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি কারিনে জ্যাঁ-পিয়েরে বলেন, ‘এটি এমন একটি আইন যা উদ্বেগজনক। আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।’