গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে শঙ্কায় রয়েছে ফিলিস্তিনের পরিবারগুলো। পরিবারের সদস্যদের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য ফিলিস্তিনিরা এখন অনেকটাই সহায়তা সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এদিকে ইসরায়েলি হামলায় আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) সাতজন কর্মী নিহত হওয়ার পর সংস্থাটি এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কর্মীরা নিহত হওয়ার পরই সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডব্লিউসিকে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেক সংস্থা ‘আনেরা’ তাদের অনুসরণ করে। কর্মীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। ডব্লিউসিকে এবং আনেরা যৌথভাবে গাজায় প্রতি সপ্তাহে ২০ লাখ আহারের ব্যবস্থা করত।
জাতিসংঘ সতর্ক করে আসছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজা এখন ক্ষুধার উপত্যকা। সেখানে ১১ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ খাদ্য সহযোগিতা প্রয়োজন। ইসরায়েলি বাহিনী ত্রাণকার্যে বাধা প্রদান করার কারণে এবং খাদ্যসহায়তা পৌঁছতে দিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম আরও সমস্যাপূর্ণ হয়েছে, কারণ ঘটনার পর সাইপ্রাস থেকে গাজার নোঙর করার মুখে থাকা খাদ্যবাহী জাহাজ ফিরে গেছে।
ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার কারণে অন্যান্য সংগঠনও নিজেদের কার্যক্রম নিয়ে শঙ্কিত। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল সতর্ক করেছে, ডব্লিউসিকের সঙ্গে যা ঘটেছে তা পুরো ত্রাণকার্যক্রমের ওপর হুমকি তৈরি করেছে।
এদিকে ডব্লিউসিকের সেসব দেশকে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছে, যাদের নাগরিকরা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তারা বলছে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা তৃতীয়পক্ষের দ্বারা স্বাধীন তদন্তের জন্য কাজ করুক।
ডব্লিউসিকে শুরু থেকে অভিযোগ করছে, সংস্থার লোগোসংবলিত টি-শার্ট থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি আক্রমণ চালিয়েছে।
ডব্লিউসিকের প্রতিষ্ঠাতা জোসে আন্দ্রেজ বলেন, গাজায় সংগঠনটির ত্রাণকর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ঘটনাটি ‘ভুল’ ছিল না। এটা ‘পরিকল্পিত’ হামলা। কারণ ঘটনার দিন ত্রাণকর্মীদের গাড়িতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। ত্রাণকর্মীদের গতিবিধি আগে থেকেই ইসরায়েলি বাহিনীকে জানানো হয়েছিল।
গত সোমবার গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ডব্লিউসিকের ত্রাণকর্মীদের ওপর বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ যায় সাতজনের। নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার দ্বৈত নাগরিক এবং যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও পোল্যান্ডের নাগরিক রয়েছেন।