১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা গত বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর পূরণ করল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের তিন দশক পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটটি ৭৫ বছর পার করার মুহূর্তে ইউক্রেনের মাটিতে যুদ্ধ সামলাচ্ছে। ইউক্রেনকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে গিয়ে জোটটি যেমন নখদন্তহীন বাঘের তকমা কুড়াচ্ছে, একই সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতার সংকটেও পড়েছে। কারণ দ্বিমেরু বিশ্বের সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতনের পর নিরাপত্তার অজুহাতে জোটের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর ৭৫ বছর পূর্তিতে গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য অবিলম্বে আরও সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।’ আবার ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টেলটেনবার্গ বলছেন, তারা শান্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং তারা কোথাও সংঘাত উসকে দেন না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ন্যাটো জোটের ঐক্য দৃঢ় জায়গায় নেই। জোটটি সংঘাত উসকে দিচ্ছে না, এমন কথারও ভিত্তি নেই। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের মাটিতে বিভিন্ন নেতার হতাশা রয়েছে। তুরস্ক ও হাঙ্গেরির মতো দেশ ন্যাটোর ইউক্রেন নীতিতে স্বচ্ছন্দে নেই।
ন্যাটোর নেতারা বলছেন, একবিংশ শতকে বৈশ্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ন্যাটো জোট এখনো প্রাসঙ্গিক ভূমিকা রাখতে পারে।
অনেক তাত্ত্বিক মনে করেন, সোভিয়েত পতনের পর ন্যাটো যেভাবে পূর্ব ইউরোপে জোট সম্প্রসারণ করেছে, তাই বর্তমানের ইউক্রেন সংকটের কারণ। ইউক্রেনকে ন্যাটোতে নেওয়ার তোড়জোড় ইউরোপের নিরাপত্তাকেই হুমকিতে ফেলবে। সোভিয়েত পতনের পর ন্যাটোর সম্প্রসারণ প্রাসঙ্গিক বিষয় ছিল না এবং তা শান্তির জন্য হুমকি।
রুশ নেতারা ন্যাটোর এই আগ্রাসী সম্প্রসারণ নীতির প্রতি রুষ্ট। ন্যাটোর ৭৫ বছর পূর্তির মুহূর্তে ইউক্রেনের সম্ভাব্য ন্যাটোভুক্তির প্রশ্নে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান অযৌক্তিক।’ তিনি মনে করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সততার সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বাস্তবতার ভিত্তিতে এবং মস্কোর নিরাপত্তার স্বার্থ মাথায় রেখে।