ন্যায়পত্র। লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত ইশতেহারকে এই শব্দবন্ধেই চিহ্নিত করল কংগ্রেস। গত শুক্রবার সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে দিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে দেশের ৩০ লাখ সরকারি শূন্যপদে চাকরি, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদহীন স্বাস্থ্যবীমা, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, জাতগণনা এবং ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জাতভিত্তিক সংরক্ষণসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিলেন। ইশতেহারে ভারতের প্রাচীনতম দলটি বলেছে, তারা কেন্দ্রের ক্ষমতায় যেতে পারলে নরেন্দ্র মোদি সরকারের চালু করা অগ্নিপথ কর্মসূচি বাতিল করে সেনাবাহিনীতে স্থানীয় নিয়োগ কর্মসূচি ফিরিয়ে আনবে। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়াও প্রতিশ্রুতি দিল কংগ্রেস।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, কংগ্রেস তার ইশতেহারে পঞ্চ ন্যায় বা ন্যায়বিচারের পাঁচটি স্তম্ভের ওপর জোর দিয়েছে। এগুলো হলো যুব ন্যায়, নারী ন্যায়, কিষান ন্যায়, শ্রমিক ন্যায় এবং হিসসেদারি ন্যায়। পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচনের জন্য তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জনগণকে দেওয়া গ্যারান্টিগুলোর ওপরও জোর দিয়েছে দলটি।
জানুয়ারি মাসে ভারত জোড়ো ন্যায়যাত্রায় রাহুল জানিয়েছিলেন, তার এই যাত্রা পাঁচটি ন্যায়ের ওপরে দাঁড়িয়ে। সেই ন্যায়ের অঙ্গীকারের সঙ্গে সংগতি রেখেই তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহার। সেখানে কৃষকদের জন্য ফসলের ন্যূনতম সহায়কমূল্য নিশ্চিত করার আইনি অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষিবিজ্ঞানী এমএস স্বামীনাথনের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ মেনে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে।
ইশতেহারে রয়েছে, শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করার কথাও। সেই সঙ্গে ২৫ বছরের কমবয়সী স্নাতকদের জন্য এক বছরের জীবিকামুখী শিক্ষানবিস হওয়ার সুযোগ দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারের কথা।
তবে দুটি বিষয় নিয়ে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনেককেই অবাক করেছে। তার একটি হলো জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়াও প্রতিশ্রুতি। অন্যটি মোদি সরকারের চালু করা অগ্নিপথ কর্মসূচি বাতিল করা।
মোদি সরকার ২০২২ সালে সেনা নিয়োগের নতুন পদ্ধতি অগ্নিপথ প্রকল্প ঘোষণা করে। ঘোষণার পরপরই দেশের বহু রাজ্যে বিক্ষোভের মুখে পড়েছে সরকার। রেল অবরোধ, ট্রেনে আগুন ও ভাঙচুর হয়েছে। বিক্ষোভের পর সেনাবাহিনীর মরফে বলে দেওয়া হয় প্রকল্পটি থেকে সরে আসার কোনো কারণ নেই তাদের। বিশ্বের অনেক দেশেই এই প্রকল্প চলমান। তবে কংগ্রেস বরাবরই এর বিরোধিতা করে এসেছে। সব শেষে লোকসভা নির্বাচনের ইশতেহারেও ঠাঁই পেল সেটি।