দূতাবাসে পুলিশের অভিযান, ইকুয়েডরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন মেক্সিকোর

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মেক্সিকো। কুইটোতে মেক্সিকান দূতাবাসে পুলিশের অভিযানের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর আমেরিকার এই দেশটি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে অবস্থিত মেক্সিকান দূতাবাসে ইকুয়েডরের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় দেশটির পুলিশ। খবর বিবিসি।

দুর্নীতির অভিযোগে ইকুয়েডরের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ গ্লাসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর গত ডিসেম্বরে মেক্সিকোর দূতাবাসে আশ্রয় নেন গ্লাস। যদিও গ্লাসের আইনজীবী বলেছেন, তিনি নির্দোষ।

এদিকে দূতাবাসে হামলার ঘটনায় মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর বলেছেন, তারা (ইকুয়েডর) ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ করে দূতাবাসে ‘জোরপূর্বক প্রবেশ’ করেছে।

মেক্সিকোর পররাষ্ট্রসচিব অ্যালিসিয়া বারসেনা জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন কূটনীতিক আহত হয়েছেন।‘

গ্লাসকে নিরাপদে দেশের বাইরে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল মেক্সিকো। কিন্তু দূতাবাসে প্রবেশ করে গ্লাসকে গ্রেপ্তার করেছে ইকুয়েডরের বিশেষ বাহিনী

যদিও অভিযানের আগে এক বিবৃতিতে ইকুয়েডরের সরকার বলেছিল, এটি একটি সার্বভৌম দেশ। এখানে কোনো অপরাধীকে মুক্ত থাকতে দেওয়া হবে না।

২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জর্জ গ্লাস। দুর্নীতির অভিযোগের কারণে তখন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়। সেই সময় তাকে দুর্নীতির দায়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত বছরের নভেম্বরে জর্জ গ্লাস কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষ আবারও দুর্নীতির আরও অভিযোগে আরেকটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপরই মেক্সিকান দূতাবাসে আশ্রয় নেন তিনি।

বর্তমানে তাকে পুলিশ পাহারায় গুয়াকিল শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় তার বিচার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।