কৃষকের দিকে আঙুল তোলার সাহস 

ব্রিটিশ উপনিবেশের সময় সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান জুলুম সহ্য করতে হয়েছে দেশের গ্রামীণ কৃষক সমাজকে। কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে সুগন্ধি চিকন চাল কেড়ে নেওয়া হতো। কৃষকের মিলত মোটা চালের ভাত। ব্রিটিশ শাসকের সামনে কৃষক জুতা পায়ে যেতে পারত না। বসতে হতো মাটিতে, হাত জোর করে। উঁচু গলায় কথা বলা বারণ ছিল কৃষকের। কোনো প্রশ্ন করা যেত না। কৃষকের ওপর চাপানো হতো অক্ষয় খাজনার বোঝা। বন্যা, খরা, মহামারী কী মৃত্যু, যাই হোক না কেন কৃষকের খাজনার কোনো মওকুফ ছিল না। খাজনা বা ফসল তুলে দিতে দেরি হলে সপাৎ সপাৎ চাবুকে কৃষকের শরীর ফালি ফালি হতো। রক্তাক্ত, ঘা-পুঁজের শরীর নিয়ে ব্রিটিশ বাহাদুরদের সামনে নতজানু হয়ে কৃষককে বলতে হতো ‘জি হুজুর, জি প্রভু আপনি মহান’। কিন্তু সব কৃষক এই জুলুম মানেননি। বঞ্চনা আর বৈষম্য সহ্য করেননি। তারা জীবনবাজি রেখে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। বাংলার কৃষি ও কৃষক সমাজের মুক্তির জন্য লড়েছিলেন। ফুলমণি মুর্মু, বিরসা মুন্ডা, রাশিমণি হাজং, মনা সর্দার, সমীর দাই, শিবরাম মাঝি, নূরলদীন, কুটুমণি দাস, রজনী দাস কিংবা এমন সহস্র সাহসী কৃষক। নীলবিদ্রোহ, আখবিদ্রোহ, তেভাগা, টংক কিংবা নানকার আন্দোলন ব্রিটিশ জুলুম আর শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণকে প্রবলভাবে প্রশ্ন করেছিল।

কৃষকের রক্তদাগের কাছে হার মানে ব্রিটিশ বাহাদুরি। আমরা ভেবেছিলাম নতুন রাষ্ট্রে কৃষক সম্মান পাবেন। রাষ্ট্রের কর্মচারীরা কৃষক সমাজের সঙ্গে আর কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। কিন্তু পাকিস্তানি শাসনও কৃষকের সঙ্গে একই রকম বৈষম্যমূলক আচরণ জিইয়ে রাখল। এমনকি এ সময়টাতেই সবুজ বিপ্লবের নামে কৃষকের কাছ থেকে টেনেহেঁচড়ে, খামচে খুবলে কেড়ে নেওয়া হলো কৃষিব্যবস্থার হাল-হকিকত। পাকিস্তানি শাসকদের সামনেও কৃষকদের হাত জোর করে নতজানু হয়েই থাকতে হয়েছে। বাংলার কৃষক পাকিস্তানি জুলুমের বিরুদ্ধে জানবাজি রেখেই দাঁড়িয়েছিলেন। নির্মম গণহত্যার ভেতর দিয়ে কৃষক সমাজ আমাদের এক স্বাধীন দেশ উপহার দিলেন। আমরা ভেবেছিলাম স্বাধীন দেশে কৃষক পাবেন সর্বোচ্চ মর্যাদা। কৃষকের জন্য প্রতিষ্ঠিত হবে সম্মান ও ভালোবাসার সংস্কৃতি। রাষ্ট্রের কর্মচারীরা কৃষকদের কাছে যাবেন, সম্মান দেখাবেন এবং কৃষকের প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ এবং নতজানু থাকবেন। কিন্তু এসব কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। কৃষক গণি মিয়ার জমি ছিল না, অন্যের জমিতে চাষ করতেন আর তার কষ্টের সীমা ছিল না। কৃষক গণি মিয়ার অবস্থার নানাবিধ পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু রাষ্ট্রের যেসব কর্মচারী কৃষকদের জন্যই মূলত বেতন পান, সেই ‘কৃষি অফিসারদের’ ধনদৌলত আর ঠাটবাট বিস্ময়করভাবে বেড়েছে। কিন্তু এদের সম্পদ ও দম্ভ কীভাবে বাড়ে বা কমে সেটি এই আলাপের বিষয় নয়।

ব্রিটিশ থেকে পাকিস্তান হয়ে আজকের এই স্বাধীন দেশে এখনো কৃষকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্যমূলক আচরণের কোনো পরিবর্তন কেন ঘটল না এই এক অমীমাংসিত সহজ জিজ্ঞাসা নিয়েই আজকের আলাপ। কৃষক সমাজের সঙ্গে আমাদের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে এসব নিশ্চয়ই অযথা অর্থ অপচয় ও কার্বন পুড়িয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে না। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, বিদ্যায়তন এবং কর্মক্ষেত্র সবকিছুর পরিবেশ এবং ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক শিক্ষাই কৃষকের প্রতি আমাদের আচরণ ও ব্যবহারবিধিকে মর্যাদার সংস্কৃতিতে গড়ে তুলে। তাহলে কী এই শিক্ষা বা সংস্কৃতি আমাদের পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র, বিদ্যায়তন কিংবা চারধারে জারি নেই। যদি জারি থাকে তাহলে এই স্বাধীন দেশে কীভাবে এখনো সরকারি কৃষি কর্মকর্তা কৃষকের সামনে আঙুল তুলতে পারেন? গালিগালাজ করতে পারেন? কৃষককে সর্বদা তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অপমান করতে পারেন? কৃষক সমাজ দেশের খাদ্য জোগায়। কৃষক সমাজের রক্ত-ঘামে আমাদের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতনভাতা হয়। অফিস চলে। তাহলে একজন কৃষক সরকারি অফিসে গেলে তাকে সহযোগিতা না করে কেন সরকারি কর্মকর্তা কৃষককে বের করে দেন? কৃষকের টাকায়, কৃষকের জন্য, কৃষকদের নিয়েই তো কৃষি বিভাগ এবং রাষ্ট্রের সরকারি স্থাপনা ও কর্মপরিসর। তাহলে কৃষক এখনো এত অবহেলা আর অবজ্ঞার কেন?

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা কৃষি অফিসে সম্প্রতি কৃষক ফজলুর রহমানের সঙ্গে সংবিধানবিরোধী নিষ্ঠুর বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন সেখানকার দায়িত্বরত কৃষি কর্মকর্তারা। দেশব্যাপী প্রতিদিন এমন ঘটছে, নানা জায়গায়, সব ঘটনা আমাদের সামনে আসে না, আবার এসব বৈষম্যমূলক আচরণ ও নির্যাতন আমরা পাশ কাটিয়ে যাই। কারণ সেটি ঘটে কৃষকের সঙ্গে তাই। এটি আমাদের বয়ে নিয়ে চলা এক অস্বিস্তকর বৈষম্যমূলক উপনিবেশিক মনস্তত্ত্ব। শিবালয়ে কৃষকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বৈষম্যমূলক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছিলাম আমরা। গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর তদন্ত কমিটি হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে শিবালয়ের কৃষি কর্মকর্তাদের ‘বদলির’ সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্র। কৃষকের সঙ্গে কৃষি ও কৃষকবিরোধী আচরণ করার পরও উভয় কৃষি কর্মকর্তার চাকরি বহাল আছে, কেবল তাদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনকে দিনাজপুর এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদারকে ফরিদপুরের সালথায় বদলি করা হয়েছে। ‘গুরু অন্যায়, কিন্তু লঘু দন্ড’। তারপরও সরকার অতি দ্রুত এই ব্যবস্থাটি নিয়েছে, ভুক্তভোগী কৃষকের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে। তবে এই ঘটনা এবং পরবর্তী সময় রাষ্ট্রের নেওয়া সিদ্ধান্ত সর্বত্র প্রচার হওয়া জরুরি এবং পরবর্তী সময় এ রকমের ঘটনা যদি কেউ ঘটান তবে তাদের সামাজিকভাবেও বয়কট করা দরকার। কারণ আমাদের এমন কোনো বৈষম্যমূলক ‘অফিসার’ দরকার নেই। এমনকি দেশের কৃষি উন্নয়ন, খাদ্যব্যবস্থা এবং কৃষক সমাজের উন্নয়নে এসব ‘বাহাদুর অফিসার’দের বিন্দুমাত্র কোনো ভূমিকাও  নেই। তাহলে জনগণ কেন নিজের পয়সায় এমন অদরকারি ‘অফিসারদের’ পুষবে? বরং এ ধরনের কৃষক ও কৃষিবিরোধী অফিসারদের জন্য রাষ্ট্রের বাজেট, সময় এবং পরিকল্পনা কৃষকের ভেতর বণ্টিত হলে আমাদের কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। অভিযুক্ত এই দুই কৃষি কর্মকর্তা এখন শিবালয় থেকে যখন তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন, সেখানেও কৃষকের সঙ্গে তারা এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করবেন না, তার কী কোনো নিশ্চয়তা আছে? নতুন কর্মস্থলের কৃষক সমাজে তাদের এই ঘটনাটির বহুল প্রচার হলে তারা সাবধান, দায়িত্বশীল এবং কৃষকের প্রতি কিছুটা হলেও দায়বদ্ধ থাকবেন।   

কী ঘটেছে সম্প্রতি মানিকগঞ্জে কৃষকের সঙ্গে? গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিবরণ থেকে ঘটনাটি জানা যাক। ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল সকালে শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নের গহেরপুর গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান একগুচ্ছ ধান নিয়ে পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসে যান। গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কৃষকের বয়স ৬৫ বছর। রাষ্ট্রীয় নীতি ও দলিলে তিনি একজন সম্মানিত প্রবীণ নাগরিক (সিনিয়র সিটিজেন)। তিনি তার ৬০ শতাংশ জমিতে বোরো মৌসুমে ধান আবাদ করেছিলেন। কিছুদিন ধরে পোকার আক্রমণে তার কচি ধানের চারা মারা যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ধানের চারা নিয়ে কৃষক কৃষি অফিসে আসেন। তিনি উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর চান এবং পোকায় কাটা ধানের চারার একটি ভিডিও জেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর অনুরোধ করেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে ভেতরে যেতে বলা হয় এবং ভেতরে গেলে কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি কৃষককে কটাক্ষ করেন। বলেন, আপনিই শুধু কৃষক নাকি আরও কৃষক আছে? আমরা তো নিয়মিত বিভিন্ন চকে (জমিতে) যাই। এ রকম অভিযোগ তো আর কোনো কৃষক দেয়নি। এরপর কৃষককে কৃষি অফিস থেকে চলে যেতে বলা হয় এবং অফিসের অন্য স্টাফরাও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগ দেয়। গণমাধ্যম লিখেছে, এরপর কৃষক ফজলুর রহমানকে কৃষি অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা কৃষক মানুষ, আমাদের টাকায় আপনাদের বেতন হয়, আপনি কেন জমিতে যাবেন না, এটা তো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।’ এরপর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেগে গিয়ে কৃষককে গালমন্দ শুরু করেন। উচ্চৈঃস্বরে কৃষককে বলেন, ‘আমি কি আপনার কামলা দেই? আপনি কি দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন? আপনি বললেই মাঠে যেতে হবে? যা পারেন করেন গা, আপনি বেরিয়ে যান, যদি বয়স্ক লোক না হতেন তবে আপনাকে দেখে দিতাম।’ পরে প্রবীণ এই ভুক্তভোগী কৃষককে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঘটনা জানার পর দুই সাংবাদিক ভুক্তভোগী কৃষককে নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদারের কাছে গেলে তিনিও সাংবাদিকদের সামনেই কৃষকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানালে তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি ভুক্তভোগী কৃষকের সঙ্গে ধমকের স্বরে কথা বলেন এবং কৃষকের আচরণ ঠিক হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন। গণমাধ্যম আরও জানায়, শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার জেলার দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম ফয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী। এ কারণে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখান এবং নিজে ঠিকমতো অফিস করেন না, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের কাছে না গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেন না। তার বিরুদ্ধে সার অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট চক্রের সহায়তাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে (সূত্র : দেশ রূপান্তর, ৩/৪/২৪)। বহু অনলাইন নিউজপোর্টালে খবরটি পরিবেশনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ধানের চারা হাতে ভুক্তভোগী কৃষক এবং আঙুল উঁচিয়ে ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে থাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

উপজেলা এলাকায়, রোজার দিন এবং ঈদের সময়ে কৃষকের সঙ্গে সংবিধানবিরুদ্ধ এমন একটি ঘটনা হয়তো আড়াল হয়ে যেত। কৃষক, শ্রমিক, ভূমিহীন, দিনমজুর, দলিত, আদিবাসী কিংবা গ্রামীণ পেশাজীবী জনগণের সঙ্গে সরকারি অফিসারদের আচরণ কেমন তা নিয়ে পঞ্চাশ বছর ধরে বহু লেখালেখি, বাহাস এবং তর্ক হয়েছে। কিন্তু ‘অফিসারদের’ মনস্তত্ত্ব ও আচরণে নিদারুণভাবে বারবার ব্রিটিশ কী পাকিস্তানি উপনিবেশিকতা উসকে ওঠে। গণমাধ্যমের কারণে আমরা শিবালয়ের ঘটনাটি জানতে পারি। কৃষকের দিকে তাক করা কৃষি কর্মকর্তার দম্ভের আঙুলের ছবিটি আমাদের সামনে আসে। এ সব দম্ভের আঙুল কৃষকের দিকে তাক করার সাহস কোথা থেকে আসে? সংবিধান দেশের কৃষক মজুর শ্রমিকের সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। তাহলে সংবিধান ও দেশের যাবতীয় আইন লঙ্ঘন করে, সব বিধি উপেক্ষা করে শিবালয়ের কৃষি কর্মকর্তা কোন সাহসে কৃষকের দিকে আঙুল তোলেন? এই যে, কৃষকের কৃষি সমস্যার সমাধান না করে তাকে বের করে দেওয়া হলো, এর দায়ভার কৃষি কর্মকর্তাকেই নিতে হবে। কৃষকদের এমনভাবে অসহযোগিতার কারণে দেশের কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্যনিরাপত্তায় কোনো ধরনের সংকট হলে এর দায়ও এ ধরনের অফিসারদের ওপর বর্তাবে। একটিবার হলেও মনে রাখতে হবে, আঙুল তুলে তাড়িয়ে দেওয়া এসব কৃষকরাই কিন্তু প্রতিদিন এমনকি করোনা মহামারীকালেও নির্ঘুম থেকে আমাদের সামনে খাবারের থালা হাজির করেন। ঘটনাটি জানার পর গণমাধ্যমের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে দ্রুত অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। কিন্তু এভাবে একের পর এক বদলি করেই কী এমন ‘অফিসারদের’ মানসিকতা এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন ঘটবে? কৃষি কর্মকর্তার মনের ভেতর বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি জীবন্ত রেখে দেশের কৃষি ও কৃষক সমাজের ভবিষ্যৎ স্থায়িত্বশীল রূপান্তর সম্ভব? এদের মাধ্যমে কী জাতিসংঘের ১৭টি লক্ষ্য পূরণ কিংবা স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব?

লেখক: গবেষক ও লেখক

animistbangla@gmail.com