মশার উৎপাত ডেঙ্গুর শঙ্কা

বরিশাল নগরীতে মশার উৎপাতে নগরবাসী এখন অতিষ্ঠ। এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকা যায় না। দিন-রাত সব সময় বাসায় কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। রাতে মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা করতে হয়।

বর্ষা মৌসুম আসার আগেই মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে বলে শঙ্কা জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস।

নগরবাসী বলছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) চলমান মশক নিধন কার্যক্রম কোনো উপকারে আসছে না। মশক নিধনের জন্য এখনই জোরদার কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব শিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মশার কামড়ে সারা শরীরে দাগ বসে গেছে। বাসায় কয়েল জ্বালিয়ে থাকা যায় না।’

কলেজ রোডের একটি মেসের বাসিন্দা মো. রিয়াদ বলেন, ‘বাসার পাশের ডোবা ও নালায় মশার লার্ভা।’ কয়েল জ¦ালিয়ে রাখতে হয় বলে হয়তো কাশিও কমছে না বলে তিনি জানান।

নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড রূপতলী হাউজিং এলাকা নিম্নাঞ্চল হওয়ায় সারা বছরই পানি জমে থাকে। এর মধ্যে নতুন নতুন বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। আর হাউজিংয়ের পাশেই রূপাতলী বাস টার্মিনাল হওয়ায় সেখানে রাস্তার দুই পাশের নালায় অসংখ্য প্লাস্টিকের কাপ, পানির বোতল, কর্কশিটের বাক্স, ডাবের খোসা ও ঠোঙা জমে আছে। সেখানে প্রচুর মশা।

ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, মশার উৎপাত এত বেশি যে সন্ধ্যার পর সবাইকে মশারির মধ্যে থাকতে হয়। সিটি করপোরেশনের লোকজন ওষুধ ছিটালেও মশা মরছে না।

নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, সামনে বর্ষা মৌসুম, তাই এডিস মশা বাড়বেই। অন্যদিকে গরমে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেও মশা বাড়বে। তাই ডেঙ্গুর প্রকোপও বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি শাহ্ সাজেদা বলেন, মশা নিধনে আগাম ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সূত্রে জানা গেছে, ৫৮ বর্গকিলোমিটারের বরিশাল সিটিতে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে। আর ৩০টি ওয়ার্ডে বিভক্ত এই সিটির মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন মাত্র ১০০ কর্মচারী। আধুনিক সরঞ্জাম বলতে রয়েছে ১০টি ফগার মেশিন, ৪৫টির মতো হস্তচালিত ওষুধ ছিটানোর যন্ত্র। যারা এসব পরিচালনা করছেন, তাদের কোনো দাপ্তরিক প্রশিক্ষণ নেই। ফলে তারা জানেন না কোথায় কোন প্রজাতির মশা রয়েছে। কোন মশার জন্য কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। আর কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা কতটুকু।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মশক নিধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি টিম মশার লার্ভা শনাক্তে কাজ করে। লার্ভা শনাক্ত হলে সেখানে ওষুধ ছিটানো হয়। এ ছাড়া বিকেলে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হয় উড়ন্ত মশা মারার জন্য।’

তিনি বলেন, এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে বরিশালে কোনো ল্যাব নেই। এজন্য মশার লার্ভা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তাই মশার লার্ভা শনাক্তের জন্য বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে একজন কর্মকর্তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ ম-ল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের কাজ করার জন্য একজন এক্সপার্টকে অনুমতি দিয়েছি।’