বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামানসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলায় পুলিশের ৮ থেকে ১০ জন সদস্য আহত হয়েছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে গতকাল রবিবার জানিয়েছেন শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।
এ সময় নুরুর বাড়ি থেকে ৭ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল এবং নুরুর ম্যানেজার নাজমুলের বাড়ি থেকে ৮ রাউন্ড গুলিসহ আরও একটি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া ৩৬টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সুদীপ কুমার।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলা মধ্য মাঝিড়া এলাকার বাসিন্দা ও মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান (৪০), রহিমাবাদ বি-ব্লক এলাকার মো. সাদ্দাম হোসেন রবিন (২৩), রহিমাবাদ দক্ষিণপাড়ার মো. রমজান আলী (৩১), খালিশাকান্দির মো. সাইদুর রহমান খোকন (৩৩), মো. বোরহান উদ্দিন (২৯), মাঝিড়া মধ্যপাড়ার মো. সেরাজুল ইসলাম (২০), রহিমাবাদ উত্তরপাড়ার মো. আমিনুল ইসলাম (২৬), কাটাবাড়িয়া মধ্যপাড়ার মো. মিতুল (২৬) এবং সাজাপুর নতুন পাড়ার মো. ওহাবুজ্জামান নাইম (৩৪)।
শাজাহানপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযানে চালিয়ে আড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন মিয়াকে দুটি বার্মিজ চাকুসহ গ্রেপ্তার করে। মিঠুনের নামে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। মিঠুন মিয়াকে থানায় নিয়ে আসার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে থানায় প্রবেশ করে মিঠুনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় থানার ওসি শহিদুল ইসলামকে ধাক্কা দেয় এবং অন্য পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারপিট করে পালিয়ে যায়। মারপিটে অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এসআই আনিছুর রহমান, কনস্টেবল ইসমাইল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, রুহুল আমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর কিছু পরে নুরুজ্জামান তার বাহিনীর আরও সদস্যকে সংঘবদ্ধ করে আবারও থানায় আক্রমণ করতে মাঝিড়ায় তার পুরাতন বাড়ির সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে একত্রিত হয়েছে এমন খবর পেয়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুরুজ্জামানসহ নয়জনকে আটক করা হয়।
শাজাহানপুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুরুজ্জামান সন্ত্রাসীদের গডফাদার। তার বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে মাদক, ইট বালু মাটি সিন্ডিকেট, জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভয়ে নিজ দলীয় নেতাকর্মীসহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীরা পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হবে। মামলার পর তাদের আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে মূল আসামি নুরুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
নুরুজ্জামানের বিষয়ে থানা পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, এক বছর আগে হাট-বাজার ইজারা টেন্ডারের সময় উপজেলা অডিটোরিয়ামে সবার সামনে থেকে কৌশলে দরপত্র চুরির ঘটনায় নুরুজ্জামান চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, জমি দখল, সরকারি কাজে বাধাসহ ৮ থেকে ১০টি মামলা রয়েছে।