চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বন্ধ হয়নি ঘুষ লেনদেন। এই অফিসে এখনো ঘুষ ছাড়া হচ্ছে না দলিল রেজিস্ট্রি, দলিলের নকল কপি তোলা, দানপত্র, বণ্টনপত্র, ঘোষণাপত্র, অংশনামাসহ নানা কাজ। দলিল নিবন্ধনসহ নানা কাজে ফতেয়াবাদ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ চট্টগ্রামের ২২টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেশ রূপান্তরে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা ঘটনার তদন্তই করেননি জেলা রেজিস্ট্রার মিশন চাকমা।
অভিযোগ উঠেছে, ঘুষগ্রহণের ছবিসহ দেশ রূপান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘুষগ্রহণকারীদের রক্ষায় উঠেপড়ে লেগেছেন জেলা রেজিস্ট্রার মিশন চাকমা। ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ৩১ জানুয়ারি যারা ঘুষ দিয়েছিলেন, তাদের কাছ থেকে জড়িতদের পক্ষে সাফাই গেয়ে লিখিত নিয়েছেন মিশন চাকমা। তার (মিশন চাকমা) দাবি, সেদিন লেনদেন করা টাকাগুলো ঘুষের ছিল না বলে লিখিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সেদিন রাজস্ব ফি বাবদ কর্মচারী সৈয়দ আজগর আলীকে ৫৪২ টাকা দেন একজন দলিল লেখক। এই টাকা ঘুষের নয়। ওই টাকা রাজস্ব ফির হলে এই প্রতিবেদকের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে দলিল লেখককে টাকা নেওয়ার পর রসিদ দিতে দেখা যায়নি কেন? এ ছাড়া সেদিন দলিলে নিবন্ধন বইতে (রেজিস্ট্রার) টিপসই আদায়কারী কর্মচারী ফেরদৌসকেও টাকা নিতে দেখা যায়। সেই টাকা কীসের? গতকাল রবিবার মোবাইল ফোনে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর দেননি জেলা রেজিস্ট্রার মিশন চাকমা।
ফতেয়াবাদ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, এই প্রতিবেদকের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে দুজন দলিল লেখককে সেদিন অফিসের কর্মচারী সৈয়দ আজগর আলী ও ফেরদৌসের হাতে পাঁচশ টাকার নোট গুঁজে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। দুর্নীতির ঘটনা ধামাচাপা দিতে জড়িতদের পক্ষে সাফাই গেয়ে ঘুষ প্রদানকারী দলিল লেখক মো. সোলেয়মান ও জাহেদুল ইসলামের কাছ থেকে লিখিত নেওয়া হয়েছে। মূলত তাদের জেলা রেজিস্ট্রারের নির্দেশে ফতেয়াবাদ সাব-রেজিস্ট্রার চিং মং চাকমার কার্যালয়ে ডেকে লিখিত দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
তবে লিখিত দিতে বাধ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে দলিল লেখক জাহেদুল ইসলাম গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেউ বাধ্য করেননি। আমি আমার বক্তব্য লিখিতভাবে দিয়েছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেশ রূপান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মাসখানেক ঘুষ লেনদেনে সতর্ক ছিলেন ফতেয়াবাদ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপর থেকে সেখানে পুরোদমে ঘুষ লেনদেন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক দলিল লেখক। নাম প্রকাশ না করে তারা জানান, দলিল নিবন্ধনে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে এই অফিসে প্রতি হাজারে সর্বনিম্ন ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা করেও নেওয়া হচ্ছে। প্রতি হাজারে গড়ে এই ঘুষের টাকার হার ৬ টাকা।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নিবন্ধনের আগে দলিল ঘেঁটে দেখার পর কার্যালয়ের মোহরার সৈয়দ আজগর আলী ও কর্মচারী ফেরদৌস দলিল লেখকদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষের টাকা নিচ্ছেন। তার আগে ২৩ জানুয়ারি দুপুরে ওই অফিসে গিয়ে ঘুষগ্রহণের একই চিত্র দেখতে পান এই প্রতিবেদক।