বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সীমান্ত ভয়াবহভাবে আক্রান্ত। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন। গত দুই-তিন দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাংক লুট হয়েছে, থানা আক্রমণ হয়েছে। কী দুর্ভাগ্য! সরকার বলতে পারছে না, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অনেকে বলেছেন, মিয়ানমারের কট্টর সংগঠন জড়িত। কেউ কেউ বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, এতে জঙ্গিরা জড়িত।
যখন কোনো কিছু করতে পারে না, তখন জঙ্গি খুঁজে বের করে। এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। সরকার ভারতের সঙ্গে পানি সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারেনি।’
গতকাল রবিবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর উদ্যোগে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া মাহফিল এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারে ঈদ উপহার প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এরা (সরকার) সব দিক দিয়ে ব্যর্থ। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণকে পথ দেখাতে ব্যর্থ। স্বাস্থ্য-শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসের কবলে। চিন্তা করে দেখুন এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। একটা মাত্র বাকি ছিল (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট), সেটার ওপরে তারা হিংস্ররূপ ধারণ করেছে। আমরা ছাত্ররাজনীতির বিরোধী নই। কিন্তু ভয়াবহ সন্ত্রাসের রাজত্ব ছাত্রলীগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৃষ্টি করেছে।’
এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আনহ আখতার হোসেন, শাম্মী আখতার, এ্যাবের হাছিন আহমেদ, মোস্তফা জামাল সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে নিহত ৪০ নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যদের হাতে তারেক রহমানের ঈদ উপহার তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনের দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জিয়া মঞ্চ আয়োজিত এক গণ ইফতারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫২ বছর পর আমরা দেখতে পাচ্ছি পাকিস্তানিদের চেয়েও ভয়ানক কর্তৃত্ববাদী শাসক এই আওয়ামী লীগ। এরা ক্ষমতার স্বার্থে দেশ বিক্রি করে দিতে পারে।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ইকবালের সভাপতিত্বে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে জিয়া মঞ্চের আবু তালেব, নাজমুল হাসান, হামিদ মামুন, আনিসুর ইসলাম সায়েম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।