রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে সামিয়া রহমান সৃষ্টি (৩৪) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের মেয়ে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ক্যামব্রিয়ান স্কুলসংলগ্ন রংধনু আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
এদিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলা মোল্লাপাড়া এলাকায় একটি ভবনের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে বাবা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতরা হলেন বাবা মশিউর রহমান (৫০) ও ছেলে সাহদাব (১৬)। একই সময় মশিউর রহমানের মেয়ে সিনথিয়াকে (১৩) গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে।
যাত্রাবাড়ী থানার এসআই সাব্বির হোসেন জানান, সন্ধ্যার পর রংধনু আবাসিক হোটেল কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই হোটেলের দ্বিতীয়তলার ২১০ নম্বর কক্ষ থেকে সামিয়া রহমান সৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিলেন তিনি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৃত সৃষ্টি উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডে স্বামী তানিমের সঙ্গে থাকতেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন সৃষ্টি। গতকাল দুপুরে যাত্রাবাড়ীর ওই আবাসিক হোটেলে ওঠেন। ইফতারের সময় হোটেলের কর্মীরা ইফতারি নিয়ে সৃষ্টির কক্ষের দরজায় নক করেন। তবে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরে থানায় খবর দেওয়া হয়। এরপর পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে কক্ষটির দরজা ভেঙে সৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে।
ফ্ল্যাটে বাবা-ছেলের মরদেহ : শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. আহাদ আলী জানান, তালতলা মোল্লাপাড়া এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয়তলা থেকে দরজা ভেঙে বাবা-ছেলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একজনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় আর অন্যজনের মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাবা ছেলেকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া হলেও প্রাণে বেঁচে গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।