বাংলাদেশ থেকে সরাসরি তৈরি পোশাক (আরএমজি) পণ্য আমদানি করতে ব্রাজিলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আরএমজি পণ্য তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে ব্রাজিলে রপ্তানি করা হচ্ছে। দেশটি সরাসরি বাংলাদেশ থেকে আরএমজি পণ্য আমদানি করলে ব্রাজিলের জন্য এটি আরও সাশ্রয়ী হবে।’
গতকাল সোমবার ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকছে। এ ভারসাম্য নিশ্চিত করতে ব্রাজিল বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য এবং চামড়াজাত পণ্যসহ আরও পণ্য আমদানি করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রাজিল থেকে মূলত চিনি, সয়াবিন তেল ও তুলা আমদানি করে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে।’
সরকারপ্রধান বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
রিও ডি জেনিরোতে আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠেয় ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে একটি বৈশ্বিক জোট গঠনে জি-২০ টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত বৈঠকে যোগ দিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার একটি আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন মাউরো ভিয়েরা। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায়। ব্রাজিল ও বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমপরিমাণ এবং উভয় দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে।’
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, ‘তার দেশও গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে।’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ব্রাজিল একই মত পোষণ করে বলেও জানান তিনি।
এ সময় শেখ হাসিনা গাজায় ইসরায়েলের হামলাকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেন। কারণ ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায় এমনকি হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও হামলা থেকে রেহাই পাননি।’
প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, ‘দক্ষিণ আমেরিকার দেশ হিসেবে ব্রাজিল প্রথম ১৯৭৩ সালের ১৫ মে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ব্রাজিলের সহায়তা চেয়েছেন। ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সংবলিত তার দেশের জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিও প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন।
এ সময় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
গত রবিবার দুদিনের সফরে ঢাকায় আসেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের পর এ প্রথম কোনো ব্রাজিলিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এলেন। বিমানবন্দরে ভিয়েরাসহ তার সঙ্গে থাকা বড় একটি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। এরপর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন ভিয়েরা।
পরে রাজধানীর একটি হোটেলে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে দুই মন্ত্রী কারিগরি সহযোগিতা-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। পরে গতকাল রাতে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা ছাড়েন।