নাটোরে জেলা নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের পর মারধর করে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তার গ্রামের বাড়ি সিংড়ার পারসাঐল গ্রামে ফেলে রেখে যায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ রয়েছে, অপহরণকারীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ।
এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে আহতের ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাটোর সদর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা সুমন আহমেদ এবং একই উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের হারোবাড়িয়া এলাকার নাজমুল হক বাবু।
এদিকে সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ ও মারধর করার সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল হাবীবের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও গাড়িচালকও রয়েছেন।
গতকাল নাটোর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে আছে। ফুটেজ দেখে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। নিশ্চিত হলেই জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এখনই আর কোনো তথ্য জানানো যাচ্ছে না।’
আহত দেলোয়ার হোসেনের পরিবার জানায়, সোমবার সকালে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য দেলোয়ার হোসেন ব্যাংকে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার জন্য বের হন। এ সময় তারা জরুরি প্রয়োজনে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে গেলে সেখান থেকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন তার ভাই এমদাদুল হক ও আলাউদ্দিন মুনশিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে দেলোয়ার হোসেন নির্বাচন অফিস থেকে নেমে এলে তাকেও একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা তাকে গাড়ির ভেতর মারধর করে। বিকেলে দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে ফেলে যায়। প্রথমে দেলোয়ার হোসেনকে অচেতন অবস্থায় পরিবারের লোকজন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রাত ২টার দিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।