সু চির জীবনে ফিরল গৃহবন্দিত্ব

মিয়ানমারের সর্বশেষ বেসামরিক সরকারের নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে একটি বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সামরিক সরকারের তরফ থেকে এই খবর জানানো হয়েছে। সু চি আবারও ফিরলেন গৃহবন্দি দশায়। ঘটনাবহুল তিন দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক জীবনে এমনটা অনেকবার ঘটেছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চিকে গৃহবন্দি রাখা নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাউ মিন তুন গত মঙ্গলবার বলেন, ‘তীব্র গরম শুরু হয়েছে। তাই শুধু অং সান সু চি নয়, সবার জন্যই, বিশেষ করে পূর্ব সতর্কতার প্রয়োজনে, বিশেষ করে বয়স্ক বন্দিদের কথা বিবেচনা করে আমরা তাদের গরম থেকে রক্ষার জন্য কাজ করছি।’

মিয়ানমারের সামরিক শাসক স্পষ্ট করেনি, সু চিকে কোথায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। এ নিয়ে জান্তা প্রশাসনের ওই মুখপাত্র কোনো তথ্যও দেয়নি। ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চির রাজনৈতিক জীবনে গৃহবন্দিত্ব নতুন কোনোবিষয় নয়। এর আগেও তিনি নিজ গৃহে বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। আগের সামরিক শাসনের সময় সু চি ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন। ইয়াংগুন শহরের ইনিয়া লেকের বাড়িতে তিনি বন্দি ছিলেন। বন্দি থাকা অবস্থায়ই তিনি ওই বাড়ির সামনে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতেন। ওই সময় গৃহবন্দি দশা থেকে তার এই বক্তব্য বেশ আলোচনা তৈরি করেছিল। ৭৮ বছর বয়সী অং সান সু চিকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর থেকে কারাগারে রাখা হয়েছে। নানা অভিযোগে তিনি ২৭ বছর কারাদ- ভোগ করছেন। এনএলডির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রাজনীতিকদের নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) সু চির মুক্তি দাবি করেছেন। ১৯৮৮ সালে গণতান্ত্রিক জাগরণ রুখতে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান ঘটায়। এনএলডি প্রতিষ্ঠা করে সু চি তার গণতান্ত্রিক আন্দোলন জারি রাখলে ১৯৮৯ সালের জুলাইয়ে তাকে প্রথমবারের মতো গৃহবন্দি করা হয়। এ সময় দেশ ত্যাগের বিনিময়ে তাকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয় যা তিনি প্রত্যাখান করেন। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়। ২০০০ সালে দ্বিতীয় দফায় গৃহবন্দি হন তিনি; মুক্তি পান ২০০২ সালে। পরের বছর আবারও তাকে গৃহবন্দি করা হয়। ২০০৮ সালে গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়। ২০১০ সালের নভেম্বরে তিনি গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্তি পান।