যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তাদের অনেকের মধ্যে তথ্য সরবরাহে কিছুটা অনীহা আছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তথ্য অধিকার আইনকে আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দিয়েছি। তথ্য যদি চাওয়া হয়, তবে তথ্য দিতে হবে। জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার আছে। একইভাবে অপতথ্য সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। আবেদন করা থাকলে নিবন্ধন পাওয়ার আগ পর্যন্ত বন্ধ হবে না। আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চলছে তা যাচাই করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের ২১৩টি নিউজ পোর্টাল আছে। এ ছাড়া ২১৩টি রেজিস্ট্রার্ড নিউজ পোর্টালসহ ৪২৬টি পোর্টাল আছে। একই সঙ্গে যেগুলো প্রক্রিয়াধীন, সেগুলোর তালিকা করতে বলা হয়েছে। এর বাইরে যত অনলাইন নিউজ পোর্টাল আছে সব বন্ধ করে দেব। তাছাড়া তথ্য প্রবাহকে অবারিত করতে চাই। তথ্য অধিকার আইন শেখ হাসিনার আমলেই সংসদে পাস হয়েছে। তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। সাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান, তারাই অপতথ্যের ওপর ভর করে অপরাজনীতি করে।
আরাফাত বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি, সেই অপশক্তি এখনো আছে। এই অপশক্তির সঙ্গে আমাদের নিরন্তর লড়াই। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে কখনো কখনো হোঁচট খেতে হয়।’
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় শৃঙ্খলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন একই কথা বলে যে, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় এক ধরনের শৃঙ্খলা আনা দরকার। সাংবাদিকতার মধ্যে যারা পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে অপসাংবাদিকতা করেন; তারা আসল সাংবাদিকতাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেন। এ বিষয়টি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেই কিন্তু আসে। কাজেই এখানেও এক ধরনের শৃঙ্খলা আনার জন্য আপনাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
অসত্য তথ্যের মাধ্যমে যে অপপ্রচার করা হয় সেগুলো সরকার ও সাংবাদিকরা একসঙ্গে মিলে প্রতিরোধ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং গঠনমূলক সমালোচনা যেমন গণতন্ত্রের জন্য, তেমনি একটি দেশ ও সমাজ এগিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য। একইভাবে তথ্যের বিপরীতে অপতথ্য সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। যে কারণে সম্মিলিতভাবে আমাদের একটি দায় আছে, কীভাবে আমরা অপতথ্য রোধ করতে পারি এবং কীভাবে তথ্যের অবাধ প্রবাহ সুনিশ্চিত করতে পারি।’
আরাফাত বলেন, যারা সাংবাদিকতা পেশায় আছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ে যান, তাদের সরকারিভাবে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য সাংবাদিকতা থাকবে, গণমাধ্যম থাকবে, মুক্তবুদ্ধির চর্চা হবে, মুক্ত সাংবাদিকতা থাকবে। সরকার ও কর্তৃপক্ষের ভুল-ভ্রান্তি থাকলে, ব্যর্থতা থাকলে তার সমালোচনাও হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান।