জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে। তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সম্পর্কে বিষোদগার ও শীর্ষ আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গতকাল রবিবার ফোরামের পক্ষে ব্যারিস্টার খোকনকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বিএনপিপন্থি আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রমের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৬ ও ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়। তবে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট গণনা বর্জন করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। ভোটের ফলে সভাপতি পদে বিজয়ী হন বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন।
ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি উল্লেখ করে গত ২৭ মার্চ ফোরামের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী এবং ফোরামের মহাসচিব ও দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে খোকনসহ নির্বাচনে জয়ী ফোরামের চারজনকে (সদস্যপদে তিনজন) দায়িত্ব গ্রহণে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে ওই নির্বাচনে সম্পাদক পদে বিজয়ী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হকের হাতে হাত রেখে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন খোকন। একই দিন দায়িত্ব গ্রহণের আগে দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বারের দক্ষিণ হলে সমমনা আইনজীবীদের সমর্থন পেতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি দলটির শীর্ষ পর্যায়ের আইনজীবীদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা (আইনজীবী নেতারা) গণতন্ত্র ও ভোটের জন্য আন্দোলন করছেন। কিন্তু আমার ঘরের ভেতরেই সমস্যা। কেন তাদের (সরকারপন্থি আইনজীবীদের) ওয়াকওভার চেয়েছিলেন? কারা এটা করল, কারা যোগসাজশ করল, কেন করল সেই মুহূর্তে এটা উচিত হয়েছে কি না। কেন এ চিঠি (দায়িত্ব গ্রহণ না করতে) দিলেন, কী কারণে দিলেন? ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করি। সচরাচর নির্বাচন বর্জন, ভোটের ফলাফল বর্জনের ঘোষণা শুনি। ভোট গণনা বর্জনের কথা শুনি নাই। আপনাদের সিদ্ধান্ত (দায়িত্ব গ্রহণে বিরত থাকার চিঠি) মানি। তবে, অসাধু উদ্দেশ্যে যদি হয়ে থাকে তাহলে আইনের দৃষ্টিতে এটা কোনো সিদ্ধান্তই না।’
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ এপিল দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ফোরামের এক বৈঠকে খোকনকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দলের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল ফোরামের এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
খোকনকে দেওয়া চিঠিতে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে তার উদ্দেশ্যে বলা হয়, ‘সংগঠনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সদস্যপদে বিজয়ী তিনজন দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকলেও সংগঠনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আপনি সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া আপনি একই দিন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে গত ৭ জানুয়ারি বর্তমান অবৈধ সরকারের ডামি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী তিনজন এমপি প্রার্থী ও বিএনএম নেতা, তৃণমূল বিএনপি, দল থেকে বহিষ্কৃৃত ও দলছুট কতিপয় সদস্যদের নিয়ে দল ও এর দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে বিষোদগার করিয়েছেন। আপনি আপনার বক্তব্যে আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে অবমাননাকর ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মানবেন না বলে ঘোষণা করেছেন, অবৈধভাবে ঘোষিত আওয়ামী লীগ দলীয় তথাকথিত একজন সম্পাদকের হাতে হাত রেখে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।’
৬ এপ্রিলের সভার বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে আপনার এহেন কার্যক্রমকে দলীয় চরম শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করে সর্বসম্মতভাবে আপনাকে ফোরামের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ২০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।’