গাজায় ত্রাণ সাহায্যের দ্বিমুখিতায় যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে সমর্থনের ক্ষেত্রে রাখঢাক করে না যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি অবিচল সমর্থন আর গাজায় চলতি যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ সহায়তার কথাও তারা বলে থাকে সমানভাবে। গাজা যুদ্ধ যখন ছয় মাসে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হরণ করেছে, তখনো যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ইসরায়েলের জন্য ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ওপরে সহায়তা কর্মসূচি অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারই সামরিক খাতের সাহায্য। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির প্রসঙ্গটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। এদিকে ইউক্রেন ও তাইওয়ানের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদে গতকাল রবিবার বলা হয়, মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েল, ইউক্রেন এবং তাইওয়ানের জন্য ৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার অর্থসহায়তা অনুমোদন করেছে। গত শনিবার এই বিল পাস হয় কংগ্রেসে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছিল। অভিবাসন, সীমান্ত ইস্যুসহ নানা ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্রেটিক পার্টিকে চাপে রাখতে রিপাবলিকান পার্টি এই বিলে সম্মতি প্রদান করছিল না। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বিলটি কংগ্রেসের অনুমোদন পেল। উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাসের পর বিলটি জো বাইডেন সই করবেন। এরপর তা আইনে পরিণত হবে।

এই বিলে ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দ করা হয় ২ হাজার ৬৩৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৯১০ কোটি ডলার অর্থ মানবিক খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এই বিলের আওতায় ইসরায়েলের সমর খাতের বিস্তৃত জায়গায় বরাদ্দ করা হয়েছে। ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট প্রতিরক্ষা খাতে ৫২০ কোটি ডলার, অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য ৩৫০ কোটি ডলার এবং অস্ত্র উৎপাদনের জন্য ১০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। ৪৪০ কোটি ডলার সরবরাহ ও অন্যান্য খাতের জন্য রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি অর্থ মানবিক সহায়তায় জন্য, যেখানে গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরের জন্য ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  

তবে হ্যাঁ, মানবিক খাতের অর্থ ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থার (ইউএআরডব্লিউএ) জন্য ব্যয় করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ ওয়াশিংটন মনে করে, গত বছর ৭ অক্টোবর হামলায় হামাসের সঙ্গে সংস্থাটির অনেকে জড়িত ছিল।

সহযোগিতা বিল পাসের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েল এবং পশ্চিমা সভ্যতা রক্ষার যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন।’

অবশ্য ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় এই বিলের নিন্দা জানিয়েছে। এত বলা হয়, এই বিল ‘ফিলিস্তিনের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন।’ হামাসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলকে গাজায় আগ্রাসনের সবুজ সংকেত দেওয়া হলো।

এদিকে এই বিলে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৬ ছাজার ৮৪ কোটি ডলার অর্থ। এ জন্য ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এ ছাড়া তাইওয়ানসহ এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮১২ কোটি ডলার।