আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) মতামত ছাড়াই ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২৪ এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়াটি আগামী ৭ (১৬ এপ্রিল থেকে দিন গণনা শুরু) কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। এতে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
রিহ্যাবের মতামত ছাড়া ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা চূড়ান্ত না করতে গতকাল রবিবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছে রিহ্যাব।
লিখিত আবেদনে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, আবাসন শিল্পের বড় স্টেক হোল্ডার হচ্ছে রিহ্যাব। সেই বড় স্টেক হোল্ডারের কোনো ধরনের মতামত ছাড়াই ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২৪ এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এমনকি খসড়াটি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। এটি করায় সংক্ষুব্ধ হয়েছে রিহ্যাবের সব সদস্য। তাই রিহ্যাবের মতামত ছাড়া ইমারত নির্মাণ বিধিমালা চূড়ান্ত না করার জন্য গণপূর্তমন্ত্রী ও রাজউককে অনুরোধ করা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, ইতিপূর্বে বিভিন্ন বিধিমালা প্রস্তুতকালে রিহ্যাবকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। স্টেক হোল্ডার হিসেবে এই বিধিমালার খসড়া প্রণয়নে রিহ্যাবের লিখিত মতামত ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি। মূলত একতরফাভাবে ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২৪ এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যা সত্যি অনভিপ্রেত।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, সরকারের আইন ও বিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রিহ্যাব সদস্যরা পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে। রিহ্যাব সদস্যরা বিভিন্ন ভবন তৈরি করে ঢাকা শহরের আবাসন সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। তাই বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে রিহ্যাবের সুপারিশ ও মতামত গ্রহণ করা আবশ্যক।
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া বলেন, রিহ্যাব সদস্যরা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জটিলতার সমাধানের মাধ্যমে প্রকল্প সম্পন্ন করে। বাস্তবায়ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও কর্মপরিকল্পনা কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রকল্পের সমস্যা ও অসুবিধাগুলো রিহ্যাব সদস্যরাই মোকাবিলা করে। এ কারণে বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে রিহ্যাবের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রিহ্যাবের মতামত ও সুপারিশ সংযোজন ও বিয়োজন করে খসড়া চূড়ান্ত করা দরকার। রিহ্যাবের মতামত না নিয়ে করলে এটি ভালো হবে না, আত্মঘাতী হবে।
রিহ্যাব জানায়, ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় ভবন। খসড়া ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় যেভাবে নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে তাতে সাধারণ নাগরিক, ভূমি মালিক ও ভবন মালিকদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবাসন শিল্প। কারণ নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা ও আয়তন কমবে, একইসঙ্গে ফ্ল্যাটের সংখ্যা হ্রাস পাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উলম্বভাবে ভবন তৈরির দিকে এগুলেও আমরা হাঁটছি উল্টোপথে। আমাদের জমির সংকট আগামীতে আরও মারাত্মক হবে। কৃষিজমির ওপর চাপ বাড়বে। বিপুল সংখ্যক নাগরিকের নিশ্চিত আবাসনব্যবস্থা ব্যাহত হবে। ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাসা ভাড়া বাড়বে। বাসা ভাড়ার চাপ সামাল দিতে না পেরে অনেকে ঢাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হবেন। ফলে নগরজীবন ব্যবস্থায় অসংখ্য জটিলতা তৈরি হবে এবং সংকটে পড়বে আবাসন খাত। আবাসন খাত সংকটে পড়লে সামগ্রিক অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।