প্রতিমন্ত্রী পলকের শ্যালক রুবেলের প্রার্থিতা প্রত্যাহার

নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেল। গতকাল রবিবার দুপুরে নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখের কাছে প্রার্থী লুৎফুল হাবিব রুবেলের পক্ষে প্রত্যাহারপত্রটি জমা দেন তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিনহাজ উদ্দিন। প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অপহরণকাণ্ডে জড়িয়ে চাপের মুখে পড়ার পর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নিলেন লুৎফুল হাবিব রুবেল।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আমি মো. লুৎফুল হাবিব সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০২৪ ইং-এ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করি। কিন্তু ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণে আমার নির্বাচন করা সম্ভব নয়। অতএব, বিধায় প্রার্থনা এমতাবস্থায় আমার জমাকৃত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের মনোনয়নপত্রটি প্রত্যাহারপূর্বক আমাকে উক্ত নির্বাচন হতে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে মর্জি হয়।’

এর আগে গতকাল সকালে এক ভিডিও বার্তায় লুৎফুল হাবিব রুবেল তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রত্যাহারপত্রটি জেলা নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়া হয়।

ভিডিও বার্তায় লুৎফুল হাবিব রুবেল বলেন, ‘সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন নির্বাচন করতে পারবে না। তারই আলোকে এই ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ২০০২ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে রয়েছি। ২০০৫ সালে সিংড়া গোল-ই আফরোজ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছি। গত ৩ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করি। ইউনিয়ন পরিষদের পর পর তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। গত ৮ তারিখে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সাবমিট করি (জমাদান)। তারপর থেকে যেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন মহল সক্রিয় আছে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লুৎফুল হাবিব রুবেলের মোবাইল ফোনে কল করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

১৫ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচন অফিস থেকে নেমে এলে চেয়ারম্যান পদে লুৎফুল হাবিব রুবেলের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নেওয়া হয়। তাকে গাড়ির ভেতর মারধর করা হয়। পরে বিকেলে দেলোয়ার হোসেনকে তার বাড়ির সামনে (সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের পারসাঐল গ্রাম) ফেলে দিয়ে চলে যায় অপহরণকারীরা। চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের দুটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ করে যে গাড়িতে তোলা হয়, সেটি ছিল তার প্রতিদ্বন্দ্বী লুৎফুল হাবিব রুবেলের। পরে আহত দেলোয়ার হোসেনের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।