ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসামের রাজনীতি জটিল এক জায়গায় রয়েছে। ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী (সিএএ) পাস, এরও আগে জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণের (এনআরসি) মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা হয়েছে। তবুও রাজ্যটির বাংলাভাষী মুসলিম-অধ্যুষিত লোকসভা আসনে সুবিধাজনক অবস্থায় নেই কংগ্রেস। রাজ্যের ১৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৩টিতে কোনোমতে প্রভাব ধরে রেখেছেন ব্রহ্মপুত্র নদ উপত্যকার ‘মিঞা মুসলিম’ সম্প্রদায়ের নেতা বদরুদ্দিন আজমল; অর্থাৎ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিজেপিই।
আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে। এতে আসামের নগাঁও ও করিমগঞ্জের মতো দুটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম-অধ্যুষিত জায়গায় ভোটগ্রহণ হবে। এখানে কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বদরুদ্দিন আজমলের দল ‘অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)’-এর। বস্তুত আজমল দল গঠনের পর কংগ্রেসের শক্তিক্ষয় হয়েছে। একসময় আজমলের দলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হলেও এখন তা আর নেই। আর এই সুবিধাই পাবে বিজেপি।
আসামের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা অবশ্য মনে করেন, নগাঁও ও করিমগঞ্জে লড়াই হবে এআইইউডিএফ এবং বিজেপির; যেখানে কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাস্তায়ই নেই।
বিজেপি ২০১৯ সালে আসামে ৯টি আসন জয় করে। এবার তারা মুসলিম-অধ্যুষিত আসনসহ ১২টি জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আসামে বাংলাভাষী মুসলিম, হিন্দিভাষী মুসলিম এবং আসামি মুসলিম মিলিয়ে মোট ৩৪ শতাংশ। তবে বিজেপির হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের কারণে কোণঠাসা তারা। অসমীয়দের মধ্যে ধারণা রয়েছে, মুসলিম বাঙালিরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন।
নগাঁওয়ে বর্তমানে কংগ্রেসের দখলে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোট কাটাকাটির অঙ্কে আসনটি হারাতে পারে কংগ্রেস। করিমগঞ্জের ক্ষেত্রেও তা সত্য। ২০১৯ সালে ভোট কাটাকাটিতে আসনটি বিজেপির দখলে যায়। বিজেপি এআইইউডিএফ এবং কংগ্রেসের মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুবিধা নিতে মুখিয়ে রয়েছে। এই ডামাডোলের মধ্যে আজমল ধুবরিতে নিজের জয় নিশ্চিতের পাশাপাশি নগাঁও ও করিমগঞ্জে জয় চান। রাজ্য রাজনীতিতে তিনি মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী নেতা হিসেবে পরিচিত।