কারও পেছনে লাগা মন্দ কাজ
আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হইও না। কান, চোখ ও হৃদয় এগুলোর প্রত্যেকেটির নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (সুরা ইসরা ৩৬)
আয়াতের প্রথম অংশে ‘ওয়ালা তাকফু’ শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। ‘তাকফু’ শব্দের সঠিক অর্থ হলো পিছু নেওয়া এবং অনুসরণ করা। সে অনুসারে আয়াতের অর্থ হবে যে বিষয়ে তুমি জানো না, সে বিষয়ের পিছু নিও না। (ফাতহুল কাদির) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, বলো না। অপর বর্ণনায় তিনি বলেছেন, যে বিষয় সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কাউকে অভিযুক্ত করো না। কাতাদাহ বলেন, যা দেখনি তা বলো না। মুহাম্মদ ইবনুল হানফিয়া বলেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না। (ইবনে কাসির) মোট কথা, যে বিষয় জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কথা বলাকে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে সবচেয়ে বড় গুনাহের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।
ধারণা করে কথা বলাও এর অন্তর্ভুক্ত। কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় ধারণা করে কথা বলা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা বিবিধ ধারণা করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা কোনো কোনো ধারণা গুনাহের পর্যায়ে পড়ে। (সুরা হুজুরাত ১২) হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা ধারণা করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা ধারণা করে কথা বলা মানে মিথ্যা কথা বলা।’ (সহিহ মুসলিম)
আয়াতের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, মানুষের কান, চোখ ও হৃদয়ের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হবে। অর্থাৎ কেয়ামতের দিন কানকে প্রশ্ন করা হবে, তুমি সারা জীবন কী কী শুনেছ? চোখকে প্রশ্ন করা হবে, তুমি সারা জীবন কী কী দেখেছ? হৃদয়কে প্রশ্ন করা হবে, তুমি সারা জীবন মনে মনে কী কল্পনা করেছ এবং কী কী বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছ? কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তির এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে। এটা হাসরের ময়দানে গুনাহগারদের জন্য অত্যন্ত লাঞ্ছনার কারণ হবে এবং এ জন্য আজাব ভোগ করতে হবে। (ফাতহুল কাদির)
এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো, যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে বিষয়ের পেছনে না লাগা, আন্দাজে কথা না বলা, কারও প্রতি কুধারণা না করা এবং কারও ছিদ্রান্বেষণ না করা। মানুষ যে জিনিসের পেছনে লাগবে, সে ব্যাপারে তার কানকে জিজ্ঞাসা করা হবে, সে কী শুনেছিল? চোখকে জিজ্ঞাসা করা হবে, সে কী দেখেছিল? অন্তরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, সে কী জেনেছিল? কারণ, এই তিনটি অঙ্গই হলো জানার মাধ্যম। কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ এই অঙ্গগুলোকে বাকশক্তি দান করবেন এবং এগুলোকে জিজ্ঞাসা করবেন।
গ্রন্থনা : জিয়াদ হাসান