‘ঘুষ’ লেনদেনের সময় দুই প্রকৌশলী আটক

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পাবনা কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ দুই উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘুষ-জালিয়াতির টাকা লেনদেনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ওই টাকা নিয়ে যাওয়া দুজন ঠিকাদার।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিল ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানে গতকাল সকালে পাবনা পাউবোতে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় তথ্য ও বক্তব্যের জন্য উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদ রানার কক্ষে গেলে ওই কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ পান তারা। কয়েকবার নক করার পর মাসুদ রানা দরজা খুললে ঠিকাদার আরিফুজ্জামান রাজিব কমিশনার ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজনকে দেখতে পান সংবাদকর্মীরা। এ সময় টেবিলে বিপুল অর্থও দেখা যায় এবং এরপরই আরেক ঠিকাদার কনক সেখানে হাজির হন। সরকারি অফিসে ঠিকাদারের সঙ্গে বন্ধ কক্ষে কীসের অর্থ লেনদেন হচ্ছে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে পুলিশকে জানালে সেখানে আসেন পাবনা সদর থানার ওসি রওশন আলী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ তাদের আটক করে। আর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পালিয়ে যান ঠিকাদার রাজিব ও কনক। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাবনা পাউবোর সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণকাজে দুর্নীতির অভিযোগে বারবার প্রত্যাহার হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে মাসুদ রানা ও এসডি মোশাররফের সহযোগিতায় ডিপিএম ও আরএফকিউ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিল ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মাসাৎ করা হয়েছে। রাফি কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার আরিফুজ্জামান রাজিব কমিশনার এবং ঠিকাদার কনকের প্রতিষ্ঠানের নামে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এসব তদন্তে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে পাবনা পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি দেখছে। কোথাকার টাকা, কীভাবে লেনদেন হলো সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম বলেন, ‘পাউবোর দুই কর্মকর্তাকে আটক এবং ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা টাকা দুদকের কর্মকর্তারা গণনা করেছেন। টাকাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৌশলীরা সদুত্তর দিতে পারেননি। এ টাকার উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সন্ধ্যায় ওই দুই পাউবো কর্মকর্তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। মামলার বিষয়টি দুদক সিদ্ধান্ত নেবে।’