জমি মালিকদের জানিয়ে ভূমি জরিপ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেছেন, ‘প্রায়ই দেখা যায় জরিপ করার সময় প্রকৃত মালিক অনুপস্থিত থাকেন। তাদের অজান্তে জরিপ কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়। জমির মালিকরা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জমি বিক্রির সময় আবিষ্কার করেন যে ভুলভাবে জরিপ করা হয়ে গেছে এবং অন্য কারও নামে জমির খতিয়ান গেজেট হয়ে গেছে। ফলে বৈধ মালিকদের তাদের সম্পত্তির অধিকার পুনরুদ্ধারে বছরের পর বছর আইনি ও অর্থনৈতিক ঝামেলায় পড়েন।’
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ভূমি ভবনে বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপের (বিডিএস) কার্যক্রমের ইডিএলএমএস প্রকল্প (এস্টাব্লিশমেন্ট অব ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্প) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
নারায়ণ চন্দ্র বলেন, ‘স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে জরিপ করার সময় প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে এলাকার ও এলাকার বাইরে বসবাসকারী মানুষ জানতে পারে তাদের এলাকায় জরিপ হচ্ছে। জরিপ প্রক্রিয়া চলাকালে জমির মালিকরা উপস্থিত না থাকায় পরে জটিলতা তৈরি হয়, এতে অনেকে হয়রানির শিকার হন। তবে আমাদের মূল্যবান সম্পদ তথা নিজ জমির বিষয়েও নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।’
ভূমিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যে ইডিএলএমএস প্রকল্পের আওতায় ছয়টি এলাকায় চলমান জরিপের প্রথম পর্যায়ের বিডিএস কার্যক্রম শেষ হবে। প্রথম পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় আউটপুট নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে একযোগে বিডিএস প্রোগ্রাম চালু করা সম্ভব হবে।’
সভায় বিডিএস কর্মকর্তারা ভূমিমন্ত্রীকে জানান, উল্লিখিত এলাকায় গ্রাউন্ড কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপনের কাজ শেষপর্যায়ে। শিগগিরই বিমান, ড্রোনসহ অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে ম্যাপ তৈরির কাজ শুরু হবে।
পর্যালোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ, ইডিএলএমএস প্রকল্প পরিচালক মো. জহুরুল হকসহ ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং ইডিএলএমএস প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা প্রকল্পের সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, মানিকগঞ্জ পৌরসভা এবং ধামরাই ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ইডিএলএমএস প্রকল্পের (এস্টাব্লিশমেন্ট অব ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্প) মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে কার্যক্রম চলমান।