বান্দরবানের থানচিতে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের শাখায় ডাকাতিতে জড়িত অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বান্দরবানের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এএসএম এমরানের আদেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে একজন রুমা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ভান নুন নোয়াম বম। গত সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তারের পর রাতে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কারাগারে যাওয়া অন্যরা হলেন বান্দরবানের রুমা উপজেলার মুনলাই পাড়ার বাসিন্দা লাল নূন নোয়াম (৬৮), লাল দাভিদ বম (৪২), চমলিয়ান বম (৫৬), লাল পেক লিয়ান (৩২), ভান নুন নোয়াম (৩৩), লাল মিন বম (৫০) এবং সদর উপজেলা লাইমিপাড়ার বাসিন্দা ভান বিয়াক বম (২৩)।
পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে বান্দরবানের রুমা সদরে যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। বান্দরবান আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই প্রিয়েল পালিত জানান, গ্রেপ্তার সাতজনকে গতকাল দুপুরে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এদিকে রুমা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ভান নুন নোয়াম বমকে সোমবার বিকেলে আটকের পর ওই দিন রাতে বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পুলু ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন মানিকের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে বান্দরবানের রুমার সোনালী ব্যাংক শাখায় হানা দেয় অস্ত্রধারীরা। ওই হামলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) শতাধিক সদস্য অংশ নেয় বলে পুলিশ দাবি করেছে। হামলাকারীরা ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে টাকা লুট করার চেষ্টা চালায়। টাকা নিতে না পেরে তারা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ১৪টি অস্ত্র ও ৪১৫টি গুলি লুট করে। পরে ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দীনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ৪৮ ঘণ্টা পর তাকে রুমা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে র্যাব।
রুমার হামলার ১৭ ঘণ্টা পর থানচি উপজেলার সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা লুট করে অস্ত্রধারীরা। এসব ঘটনায় রুমা ও থানচি থানায় ৯টি মামলা হয়েছে। কেএনএফ সদস্যসহ এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৬ জনকে। এর মধ্যে ৫৩ জনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। লুট হওয়া পুলিশ-আনসারের অস্ত্র ও গুলি এখনো উদ্ধার করা যায়নি।