মৃত্যু এক অনিবার্য সত্য। প্রতিটি প্রাণীর জন্য মৃত্যু অবধারিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে একটি নির্ধারিত সময়। অতঃপর যখন তাদের সেই নির্ধারিত সময় এসে পড়বে, তখন তারা না এক মুহূর্ত পেছাতে পারবে এবং না আগে যেতে পারবে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৩৪)
মৃত্যু নির্ধারিত সময়েই আসবে। তবুও মানুষ বিভিন্ন সময় ভয়াবহ বিপদে পড়ে পেরেশান হয়ে যায়। ধৈর্য হারিয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করতে থাকে। অনেকে আত্মহত্যার মতো জঘন্য পন্থাও বেছে নেয় নিপতিত বিপদ থেকে রক্ষা পেতে। যদিও সেটা তার বিপদ থেকে মুক্তির সঠিক উপায় নয়। বরং এটা শরিয়তে সম্পূর্ণ হারাম। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। শুধু নিষেধ করেননি, বরং তার উপযুক্ত কারণও দর্শিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন নিজের মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে যদি সৎ হয় তবে (বেঁচে থাকলে) হয়তো সে নেক কাজ বৃদ্ধি করবে। আর যদি পাপী হয়, তাহলে হয়তো সে তওবা করবে।’ (সহিহ বুখারি)
তবুও মানুষ অনেক সময় চতুর্মুখী বিপদে নিপতিত হয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করে। যদিও হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি কেউ নিরুপায় হয়, তাহলে করণীয় কী তা হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ দুঃখ কষ্টে পতিত হওয়ার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তা হলে সে যেন বলে, হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যাণকর হয়।’ (সহিহ বুখারি)