যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রবিক্ষোভ থামছে না

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে গত সপ্তাহ থেকেই ফুঁসছে। গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পুলিশ কর্তৃক গণহারে গ্রেপ্তারের খবর দেওয়া হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে। নতুন করে বিক্ষোভ আয়োজনের চেষ্টা চলছে অনেক জায়গায়। শিক্ষার্থীরা তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান ধরে রেখেছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বিক্ষোভকারীরা তাদের স্থাপিত তাঁবুর সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে আনার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন বলে দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা এবং আরও নানা দাবি নিয়ে ক্যাম্পাসে তাঁবু স্থাপন করে বিক্ষোভ শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা। কলাম্বিয়া বিশ^বিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের আঁচ সবচেয়ে বেশি লাগে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ও ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে পুলিশ কমপক্ষে ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করে। আর ইয়েল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৪৫ জনকে। এর মধ্যে শতাধিক শিক্ষার্থী ছাড়া পেয়েছেন বলেও জানা গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ম্যসাচুসেটস পর্যন্ত ক্যাম্পাসগুলোতে তাঁবু খাটিয়ে চলছে বিক্ষোভ।

‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ নামের একটি সংস্থার নিউ ইয়র্ক অধ্যায়ের তরফ থেকে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মুসলিম, ফিলিস্তিনি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ না করেন।

গতকাল বুধবার দিনের শুরুতে কলাম্বিয়ায় শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এরপর জানানো হয়, তাঁবুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে এবং তাঁবুগুলোতে যাতে শিক্ষার্থীরাই শুধু অবস্থান করতে পারেন সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য কর্তৃপক্ষের এ দাবির ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমন টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই গত মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটে ইসরায়েল, ইউক্রেন এবং তাইওয়ানকে সহায়তার বিল পাস হয়েছে। গত মঙ্গলবার সিনেটে সহজেই পাস হয় সহায়তা বিল। এখন বিলটি আইনে পরিণত হতে শুধু প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সই করাই বাকি।

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ইউক্রেন, ইসরায়েল এবং তাইওয়ানসহ ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন অংশীদারদের ৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা অনুমোদন পায়। বিলটি অনুমোদিত হয় ৭৯-১৮ ভোটে।

গাজায় গণহত্যা চালানো দখলদার দেশ ইসরায়েলের বরাদ্দ জন্য দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।