পর্নোগ্রাফি বানিয়ে আবারও গ্রেপ্তার টিপু কিবরিয়া

ছিন্নমূল পথশিশুদের নিয়ে পর্নোগ্রাফি ভিডিও তৈরি করে আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন শিশুসাহিত্যিক টিআই এম ফখরুজ্জামান ওরফে টিপু কিবরিয়া। গত মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে টিপু কিবরিয়া ও তার সহযোগী কামরুল ইসলাম ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এ সময় তাদের বাসা থেকে একজন শিশুসহ ভিডিও ধারণ করা ক্যামেরা, পিসি, ক্লাউড স্টোরেজ জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি জানায়, এবার টিপু কিবরিয়াকে গ্রেপ্তারের পর ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ অনেক দেশের গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা ২৫ হাজার শিশু পর্নোগ্রাফির ছবি ও ১ হাজার ভিডিও পাওয়া গেছে। সাংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টিপু কিবরিয়া আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অনেক দেশে তিনি শিশু পর্নোগ্রাফির অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত। ২০১৪ সালের জুনে শিশুদের পর্নোগ্রাফি তৈরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্টারপোলের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় ছয় বছর কারাগারে থাকার পর ২০২১ সালে কারামুক্ত হন টিপু।

আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকার গুলিস্তান, রমনাপার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ছিন্নমূল পথশিশুদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে পর্নোগ্রাফির কাজে যুক্ত করতেন তিনি। পরে তাদের অশ্লীল ও গোপনাঙ্গের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পাঠাতেন। এ ছাড়া তাদের চাহিদামতো বন-জঙ্গলে নিয়েও ছিন্নমূল পথশিশুদের পর্নোগ্রাফির ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়ে দিতেন। পরে এসব ভিডিও বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি সাইটে আপলোড করতেন।

সিটিটিসি জানায়, মাত্র ৫০০ থেকে হাজার টাকার প্রলোভনে টিপু এই পথশিশুদের নিয়ে আসতেন। তার চক্রে কামরুল ছাড়াও অনেক সহযোগী রয়েছে। চক্রের সদস্যরাও অর্থের লেনদেন করতেন ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ও কিছু এমএফএসের মাধ্যমে। ৩-৪টি ছোট ভিডিও পাঠালেই তিনি পেতেন হাজার ডলার। দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার এজেন্ট। এ রকম বেশ কয়েকজন এজেন্টকে শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫-৩০ জনের মতো ভুক্তভোগী শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সবাই ছেলে।