স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে ব্যর্থ হলে ৭ জানুয়ারির প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র ক্ষুণœ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন ভবনে মাঠপ্রশাসনের সঙ্গে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। এবার প্রতিটি জেলায় চারটি ধাপে নির্বাচন হবে। এটা নতুন মাত্রা হলো জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখতে পারবেন। মোতায়েন সহজ হবে, যেহেতু চারটি পর্বে নির্বাচন হবে।’
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনটা নির্বাচন, এ জিনিসটা আমাদের বুঝতে হবে। যদি এ ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের গণতন্ত্রের যে অগ্রযাত্রা, যেটার দৃষ্টান্ত আপনারা প্রতিষ্ঠিত করেছেন ৭ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে সেটাও ক্ষুণœ হয়ে যেতে পারে। আমরা আশা করব, আগামীতে আমাদের প্রত্যেকটা নির্বাচন সুন্দর-সুষ্ঠু হবে।’
উপজেলা নির্বাচন যেন অবাধ হয় সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আবেগ-অনুভূতির কারণে দেশে নির্বাচনে অনেক সময় কিছুটা উচ্ছৃঙ্খলতা হয়ে থাকতে পারে, সহিংসতাও হতে পরে। এগুলো যেন না হয়, সেই দিকটাও দেখতে হবে। নির্বাচনটা যাতে অবাধ হয়। যারা ভোটার, তারা যেন এসে নির্বিঘেœ ভোট প্রদান করে আবার নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।
সিইিসি আরও বলেন, ‘আরও অন্যান্য নির্বাচন ইউনিয়ন পর্যায়ে, সেগুলো যেন সুন্দর-সুষ্ঠুভাবে হয় এবং আমরা যেন এ জিনিসটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারি যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে, আমাদের নির্বাচন নির্বাচনের মতোই হয়ে থাকে। ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।’
প্রধান নির্বাচন কশিনারের বক্তব্যর পর সভা শুরু হয়। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সভায় সব বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, আইজিপি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা ও ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ‘সভায় আলোচনার বিষয় ছিল সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য মাঠপর্যায়ে কী ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে আর কী সহায়তা দরকার সেটি।’
সচিব বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মাঠপ্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা (মাঠপ্রশাসন) যেভাবে নিরপেক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে, সেই ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ জেলায় কী সমস্যা আছে তা বলেছেন। পার্বত্য জেলায় হেলিকপ্টার দেওয়া হয়, সেখানে তিন দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনের সম্মানী ভাতা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আলোচনা হয়। কমিশন সেটিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রতিটি উপজেলায় দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ভোটের দিন সকালে ব্যালট গেলে অতিরিক্ত বাজেটের প্রয়োজন হবে। কমিশন সেটি বিবেচনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। মূলত মাঠপ্রশাসন যাতে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাঠ প্রশাসন কোনো চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে কি না জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘তারা চ্যালেঞ্জের কথা বলেনি। তারা যেটা বলেছে, স্থানীয় নির্বাচনে যেহেতু প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে... সেখানে প্রতিযোগিতাটা বেশি হবে, এজন্য তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বলেছেন। সহিংসতার আশঙ্কা করেননি। গোয়েন্দা রিপোর্টে সেটি থাকে। কোথাও কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, আচরণবিধি যাতে সবাই যথাযথভাবে প্রতিপালন করেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বৈঠকে অনেকে অনুরোধ করেছেন। কমিশনও সেটি আশ্বস্ত করেছেন যে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
ইউপি চেয়ারম্যানরা স্বপদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন আদালতের এমন নির্দেশনার পর ইসির করণীয় কী, জানতে চাইলে জাহাংগীর আলম বলেন, ‘মামলার আদেশের কপি এখনো পাইনি। সেটা পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’