ঘড়ির দাম ১৫ লাখ ডলার!

জন জ্যাকব অ্যাস্টর ছিলেন ধনাঢ্য অ্যাস্টর পরিবারের সদস্য। ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তিনি একটি ঘড়ি পরতেন। সেটির নিলাম হয় গত শনিবার। ঘড়িটির মূল্য উঠেছে ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রত্যাশার চেয়েও ১০ গুণ দামে বিক্রি হয় ঘড়িটি।

টাইটানিকডুবির পর জাহাজসংক্রান্ত নানা কিছুই নিলামে উঠেছিল। ঐতিহ্য আর স্মৃতি সংরক্ষণের প্রতি অনুরাগী মানুষ প্রতিনিয়তই সেসব সামগ্রী নিলামে কিনেছেন। তবে অ্যাস্টরের ঘড়িটি টাইটানিকের সামগ্রীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে নিলামে বিক্রি হলো। নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘হেনরি অ্যালড্রিজ অ্যান্ড সান’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু অ্যালড্রিজ জানান, টাইটানিকের যাবতীয় সামগ্রীর মধ্যে এই ঘড়ির বিক্রয়মূল্য নতুন রেকর্ড করেছে।

১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় টাইটানিক জাহাজ ডুবে যায়, যা ইতিহাসের এক ব্যাপক আলোচিত ঘটনা হয়ে রয়েছে। এতে দেড় হাজারের মতো মানুষ প্রাণ হারান। তবে সৌভাগ্যক্রমে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মেডেলেইন ওই সময় বেঁচে যান। যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে গত শনিবার অ্যাস্টরের পকেটঘড়িটি নিলামে তোলা হয়। এ ছাড়া বেহালা বহনের একটি ভ্যালিসও নিলামে তোলা হয়, যা বিক্রি হয় ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলারে। ওই ভ্যালিস ছিল টাইটানিকের ব্যান্ড সদস্য ও অর্কেস্ট্র দলের নেতা ওয়ালেস হার্টলির।

এ নিয়ে অ্যালড্রিজ বলেন, ‘এসব অসাধারণ সামগ্রীর মূল্য ঐতিহাসিক গুরুত্বকেই শুধু প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং টাইটানিকের গল্প এবং স্মৃতির প্রতি আগ্রহেরও উদাহরণ।’ তিনি জানান, টাইটানিক ডুবে যাওয়ার সময় অ্যাস্টরের শরীরের সঙ্গে ঘড়িটি জুড়ে ছিল। তার সঙ্গে হীরার আংটি ও পকেটবুকসহ আরও কয়েকটি সামগ্রী ছিল। 

অ্যাস্টরের মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাপ্ত সামগ্রীগুলো তার ছেলে ভিনসেন্ট অ্যাস্টরের কাছে পাঠানো হয়। পরে সেই সন্তানই ঘড়িটিকে সচল করেন। এরপর ভিনসেন্ট ঘড়িটি উপহার দিয়েছিলেন অ্যাস্টরের নির্বাহী সেক্রেটারির সন্তান উইলিয়াম ডবিনের কাছে। নব্বইয়ের দশকে ডবিনের হাত থেকে নিলামে ঘড়িটি কিনে নেয় একটি পক্ষ। পরে এটি কয়েকটি জাদুঘরেও শোভা পায়। সর্বশেষ আরও একটি নিলামে ঘড়িটি বিক্রি হলো।