রাজধানীর পুরান ঢাকার ইসলামবাগ এলাকার একটি চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে অস্ত্রের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। পরে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনশ্ব মো. রাজীব হোসেন রানা (২৮), মো. শাহীন (৪০), মো. আবুল হাসান সুজন (২৫), মো. পারভেজ নুর (৩৮) ও মানিক চন্দ্র দাস (৩৬)। এ ছাড়াও সন্দেহভাজন দুজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অস্ত্র ও গুলির মধ্যে রয়েছেশ্ব তিনটি বিদেশি পিস্তল ও ১৪ রাউন্ড গুলিসহ তিনটি ম্যাগাজিন, একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি কার্তুজ, দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার ও একটি ছোট বাক্সভর্তি ২০ রাউন্ড গুলি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ড. খ. মহিদ। তিনি বলেন, চকবাজার থানার পূর্ব ইসলামবাগ এলাকার একটি বাড়িতে গত ১২ এপ্রিল চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্তে নেমে অভিযান চালিয়ে চুরির সঙ্গে দুই নারীসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের হোতা ২২ মামলার আসামি মামুন। মামুনের অন্যতম সহযোগী তার মা হাসিনা। তারা স্থানীয়ভাবে চোর হিসেবে পরিচিত। চুরি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়ে গড়ে তোলা ১০ থেকে ১২ জনের চক্রটি ‘মামুন বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে নেমে অস্ত্রের কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পান তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মামুনের চক্রের একটি অংশের সদস্য রাজীব হোসেন রানাসহ চক্রের তিন সদস্য প্রায় এক বছর আগে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকার একটি বাসায় চুরির ঘটনা ঘটায়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে এই ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। পরে জানা যায়, ওই বাসা থেকেই টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বেশ কয়েকটি অস্ত্র চুরি হয়েছে। অস্ত্রগুলো অবৈধ হওয়ায় এর মালিক শাহীন কোনো অভিযোগ করেননি। পরবর্তী সময়ে শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত ২২ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৫ দিন ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পাঁচটি অস্ত্র ও ৩৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সুজনের কাছ থেকে দুটি, রানার কাছ থেকে একটি, মানিকের কাছ থেকে একটি এবং পারভেজের কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
মহিদ আরও বলেন, অস্ত্রগুলো অপব্যবহারের সুযোগ ছিল চক্রের। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তা হলো অস্ত্রগুলো একাধিকবার হাতবদল হয়েছে। কেনাবেচা হয়েছে। তবে অস্ত্রগুলো কোনো ধরনের ব্যবহারের তথ্য মেলেনি। তার আগেই উদ্ধার করা হয়েছে।
অস্ত্রের প্রকৃত মালিক বৈধ নাকি অবৈধ জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, অস্ত্রগুলো চুরি হওয়ার পর তিন হাতে বদল হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র শাহীন কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন সেই বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
পুলিশ জানায়, অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার রানার বিরুদ্ধে ১০টি, সুজনের বিরুদ্ধে একটি, মানিকের বিরুদ্ধে চারটি ও পারভেজের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে রয়েছেন।