ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি রোধে ব্যবস্থার নির্দেশ হাইকোর্টের

দেশে সব ধরনের ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অব্যাহতভাবে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কর্র্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা অনুমোদনহীন কাঁচামাল ও ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ ও আনিচ উল মাওয়া।

এর আগে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছাচারী ও আইনবহির্ভূতভাবে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কর্মকা- প্রতিরোধ না করাকে কেন অবৈধ আইনি কর্র্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আলমগীর কবীর আদালতে এই আবেদনটি করেন। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

এ ব্যাপারে রিট আবেদনকারী ক্যাবের সদস্য সচিব আলমগীর কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, সে জন্য আমরা হাইকোর্টকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং রায়ের যে নির্দেশনাগুলো হাইকোর্ট দিয়েছেন, সরকার সেগুলো অচিরেই বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর মধ্য দিয়ে সরকার জনগণকে তার স্বাস্থ্যসুবিধা দিতে নিশ্চিত ভূমিকা পালন করবে।’

ক্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো অবৈধভাবে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আনে। ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজেরাই কারসাজি করে ওষুধের দাম নির্ধারণ করে। এ দুটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা চেয়ে রিট করেছিলাম। কারণ ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩ অনুযায়ী, ওষুধের দাম নির্ধারণ কোনো ওষুধ কোম্পানির এখতিয়ার না। যাচাই-বাছাই করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দাম নির্ধারণ করবে। কিন্তু ওষুধ কোম্পানিগুলো কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে তারা তাদের ইচ্ছেমতো ওষুধের দাম বাড়ায় ও সরকারি সংস্থাগুলো সেটা মনিটরিং করে না। অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ওষুধ কোম্পানিগুলো দাম নিয়ন্ত্রণ করে। ওষুধ কোম্পানিগুলো দাম নির্ধারণ করে এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সেটাই অনুমোদন করে দেয়। এটা জনগণের স্বার্থ ও আইন পরিপন্থী।’